অতঃপর প্রেম Then love Part -01 | মনে প্রাণে | MONE PRANE | Apurba Bangla Natok | Apurbo, Mehazabien — New Bangla Natok
Admin
16 Sep, 2022
#অতঃপর প্রেম
#পর্ব -০১
#লেখনীতে_আয়ানা_আরা (ছদ্মনাম)
বাসর ঘরে ঢুকে রবিউল খাটে নতুন বউয়ের পাশে বসতেই তার পেট মোচড় দিয়ে উঠলে বউকে বললো, আমি একটু আসতেছি!
সে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে আবার খাটে বসে নতুন বউয়ের ঘোমটা তুলতে গিয়ে বললো, আমি একটু আসতেছি!
সে একটু পর পর আসি আসি করলে নতুন বউ জিজ্ঞেস করলো, কী হয়েছে তোমার?
সে ওষুধ খেলেও কিছুক্ষণ পরপর তার পেট ব্যথা যাচ্ছে না। খালি বাথরুম পাচ্ছে। তার বাসর গেলো বাথরুমে যেতে যেতে। তার বাসায় সবাই বলাবলি করলো বিয়ের খাবারে কোনো ঝামেলা ছিলো! মেয়ে বাড়ির খাবারে দোষ!
কিন্তু নানা ওষুধ খেয়েও রবিউলের পেট খারাপ ভালো না হলে ডাক্তার দেখালো সে! এন্টিবায়োটিক খেয়েও কাজ হচ্ছে না তার! আধা ঘন্টা পরপর বাথরুমে যাচ্ছে সে!
নতুন বিয়ে করা বউ পড়লো লজ্জায়! আদর সোহাগ হানিমুনের সময় স্বামী পড়ে থাকে বাথরুমে! তাও পেট খারাপের মতন গরিব রোগে!
আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবার কানে গেলো রবিউলের অসুখের কথা! মাসখানেক হলেও তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হলো না! বড়ো বড়ো ডাক্তার দেখানো শেষ। কেউ তার কোনো অসুখ পেলো না! সবাই আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছে একটা মানুষের একটু পরপর বাথরুম কেন পাবে?
রবিউলের পেট খারাপের কথা শুনে রবিউলের এক দূরসম্পর্কের দাদি বললেন, ডাক্তার কবিরাজ দিয়া কাম হবে না। ওরে কেউ তাবিজ করছে! নাইলে একটা মানুষ এতো হাগবো কেন? এত হাগার কী আছে? ওরে হাগার জ্বীনে ধরছে! ওরে ওঝা দেখা!
রবিউলের মাও ভাবলেন কথা সত্য! এক ওঝা সত্যি সত্যি এনেছেন তিনি। ওঝা রবিউলকে তার সামনে বসিয়ে প্রথমে নাকে মরিচ পোড়া ধরে কিছুক্ষণ ঝাড়ু দিয়ে পেটালেন। ঝাড়ুর বাড়ি খেয়েও রবিউল বললো, আমি বাথরুমে যাবো!
ওঝা তখন মন্ত্র পড়া শুরু করলেন! মন্ত্র পড়া শেষে বললেন, এতো ইচ্ছা ঠাকুরের অভিশাপ! সর্বনাশ!
রবিউলের মা, বাবা, বউ, আত্মীয় স্বজন বললেন, ইচ্ছা ঠাকুর? এটা আবার কী?
ওঝা বললেন, ইচ্ছা ঠাকুর হচ্ছেন যিনি দুঃখি মানুষের ইচ্ছা পূরণ করেন! এই ছেলে কাউকে কষ্ট দিয়েছে। তার অভিশাপেই এমন হচ্ছে! ছেলে আসছে বাথরুম থেকে?
রবিউল ক্লান্ত দেহে ভেজা লুঙি পরে ওঝার সামনে বসলে, ওঝা বললেন, তুমি কাউকে কোনো কষ্ট দিয়েছো? কারো মনে আঘাত?
তখন সে পেট ধরে বললো, আমার জানামতে দেই নাই! আমার কোনো শত্রু নাই তো!
ওঝা বললেন, অসম্ভব! এটা অভিশাপের ফল! আবার মনেকরো কাউকে আঘাত করেছো? কথা দিয়ে কথা রাখো নাই এমন হয়েছে?
তখন রবিউল মিটিমিটি চোখে সবার দিকে তাকিয়ে ওঝাকে ফিসফিস করে বললো, আমার বিয়ের আগে একটা প্রেম ছিলো। সেই মেয়েকে বলেছি আমার পরিবার তোমাকে মানবে না। মিথ্যা বলে ফেসবুকে পরিচিত এই মেয়েকে বিয়ে করেছি। কষ্ট দিলে আমার প্রেমিকাকেই দিয়েছি! আমাকে বাঁচান বাবা! দুইমাস হয় বাসর করতে পারি নাই! খালি হাগি আর হাগি আমি!
ওঝা বললেন, ওই মেয়ের কোনো ছবি আছে?
তাহলে আমি মন্ত্র পড়ে সব দেখতে পাবো ঘটনা কী ঘটেছে!
রবিউল মোবাইল থেকে তার এক্সের ছবি বের করে দেখালে ওঝা মন্ত্র পড়া শুরু করলেন!
মন্ত্র পড়ে তিনি দেখলেন, রবিউলের এক্স রবিউলের বিয়ের দিন বারান্দায় বসে চিৎকার করে কাঁদতেছিলো। তখন তার বাড়ির সামনে দিয়ে ইচ্ছা ঠাকুর উড়ে যাচ্ছিলেন! মেয়ের কান্না দেখে তিনি থেমে বললেন, কে গো মা তুমি? কাঁদছো কেনো? কী এমন কষ্ট তোমার মনে?
রবিউলের এক্স প্রথমে ভয় পেলে ইচ্ছা ঠাকুর নিজের পরিচয় দিলে সে বললো, ঠাকুর, আমার একটা ভালোবাসা ছিলো! দীর্ঘদিন প্রেম করে সে একদিন আমাকে বললো তার পরিবার নাকি আমাকে মানবে না! সে আমাকে বিয়ে করতে পারবে না! আপনি বলেন ও কী প্রেম করার সময় এতিম ছিলো? ওরে রাস্তায় টোকায়া পাইছিলাম আমি? পরিবার না মানলে তুই প্রেম করছোস কেন? পরে দেখি বাসা না, তার সাথে ফেসবুকে আরেক মেয়ের রং ঢং ছিলো। তাকে বিয়ে করতেই আমার কাছে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে সে!
ইচ্ছা ঠাকুর মেয়েটার কথা শুনে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, হ্যাঁ মা। তুমি যা বলেছো তা সত্য বলেছো। সে তোমাকে ঠকিয়েছে! তুমি ভালোবাসায় সৎ ছিলে। এখন বলো আমি তোমার একটা ইচ্ছা পূরণ করে দিবো। কী চাও আমার কাছে?
হিরা মুক্তা? তুমি কি সিনেমার নায়িকা হতে চাও?
ধুর! ঠাকুর! সত্য আমি যা চাইবো দিবেন?
হ্যাঁ মা দিবো! তুমি পবিত্র! আমি তোমার কথা রাখবো! বলো মা কী চাও?
মেয়েটা বললো, তাহলে আমি যতবার আমার এক্সের নাম নিবো ততবার যেন হারামজাদার হাগু পায়! কিন্তু তাতে যেন সে অসুস্থ না হয়! খালি ওর নাম নিলেই যেন ওর হাগু ধরে! ওর বাসর আমি করাচ্ছি!
ইচ্ছা ঠাকুর মেয়েটার কথা শুনে কিছুক্ষণ হাসতে হাসতে আকাশে গড়াগড়ি খেলেন! তারপর বললেন, তোমার ইচ্ছা পূরণ হোক মা! এখন থেকে তুমি তার নাম নিলেই সে বাথরুমে দৌড়াবে! এই অভিশাপ কেবল তুমিই ফেরত নিতে পারবে অন্যকোন ইচ্ছায়।
তবে কেবল একবারই! এরপর আর চেঞ্জ হবে না।
ওঝা সমস্ত ঘটনা চোখ বন্ধ করে দেখে রবিউলের বাসায় সবার কাছে ঘটনা খুলে বললেন। ওঝার কথা শুনে রবিউলের নতুন বউও কিছুক্ষণ ওঝার ঝাড়ু দিয়ে রবিউলকে পেটালো! রবিউল ঝাড়ুর বাড়ি খেতে খেতেই মেঝে ভাসিয়ে দিলো হাগু করে!
ওঝা বললেন, ওই মেয়ের পা ধরে ক্ষমা চাইলে যদি ওই মেয়ে ক্ষমা করে তবেই তোমার এই হাগু অভিশাপ বন্ধ হবে।
রবিউল তার এক্সের বাসায় গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার পা ধরে ক্ষমা চাইলো। মাটিতে গড়াগড়ি খেলো। তখন তার এক্স বললো, ঠিক আছে বাসায় যাও। আমি তোমাকে ক্ষমা করবো।
এখন সামনের থেকে দূর হও!
রবিউল বাসায় এসে দেখলো অনেকক্ষণ তার বাথরুম পাচ্ছে না! সে মহাআনন্দে খুশিতে লাফালাফি করতে লাগলো! নতুন বউয়ের কাছেও ক্ষমা চাইলো! বউ ক্ষমাও করে দিলো তাকে! রবিউল আদর করে বউকে জড়িয়ে ধরতে গেলে তার বউ বললো, দাঁড়াও আমি একটু বাথরুম থেকে আসতেছি!
এরপর রবিউল কাঁদতে কাঁদতে আবার তার এক্সকে কল দিয়ে বললো, তুমি কী করছো আবার? আমার বউকে আমি আদর সোহাগ করতে গেলেই বেচারির বাথরুম পায়!
Fazlay khoda raihan
==== ============= ================ =================
শপিং মলে এসে যে নিজের বিয়ে হয়ে যাবে জানলে কোনোদিনও আসতাম না। ধরে বেঁধে এক অচেনা লোকের সাথে বিয়ে দিয়েছে। এইসব ভাবতেই আমার গা টা শিউরে উঠছে।
ফ্ল্যাশব্যাক_
আমি আর আমার ফ্রেন্ড মোমো শপিং এর জন্য আসি। মোমো অন্য দোকানে চলে যায়। আর আমি দাঁড়িয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম হঠাৎই একটা বখাটে ছেলে এসে আমার সামনে দাঁড়ায়। আমি তাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে আসতে নিলেই ছেলেটা খপ করে আমার হাত ধরে তার ৩২ হলদেটে দাঁত বের করে বলে,'কি মামুনি কোথায় যাও?'
আমি এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে ছেলেটাকে কষিয়ে থাপ্পড় দিয়ে বলি,'আমি না তোর মামুনি লাগি?মামুনির হাত কেউ ধরে?এই শিখিয়ে বড় করেছি আমি?'
ছেলেটা গালে হাত দিয়ে বোকার মতো তাকিয়ে রইলো আমার দিকে। হয়তো আমার কথার কিছুই বুঝেনি। আমি আবারও বললাম,'এই থাপ্পড়টা মনে থাকলে কখনো কোনো মেয়েকে জ্বালাবি না।'
'কি হচ্ছে এইখানে?'
পুরুষালি কন্ঠ শুনে আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি একটা ব্ল্যাক শার্ট পরা ছেলে দাঁড়ানো। আমি তাকে দেখে ভ্রুকুচকে বলি,'কোন নবাবাজাদা আপনি যে আপনাকে আমার জবাবদিহি দিতে হবে?'
ছেলেটা ভ্রুকুচকে বলে,'ওয়াট?'
আমি কিছু না বলে সেই বখাটে ছেলেটাকে খুজতে লাগলাম। দেখি সে উধাও। আশ্চর্য তো এতো তাড়াতাড়ি কেমনে চলে গেলো। হঠাৎই একটা লোক কিছু মানুষজন নিয়ে এসে ছেলেটাকে ইশারা করে বলে,'এইযে এই ছেলেটাই জ্বালাচ্ছিলো মেয়েটাকে।'
ছেলেটা বলে,'আজব তো আমি জ্বালাবো কেনো?'
ওই লোকগুলোর মধ্যে একটা লোক বলে,'এই পোলা এই মেয়েটাকে তোর বিয়ে করতে হবে।'
ছেলেটা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি চিল্লিয়ে বলি,'কিহহ। অসম্ভব।'
'এহ যখন নিব্বা নিব্বি করতে আসো তখন এইগুলা মনে থাকে না??'
লোকটার কথা শুনে আমার মেজাজ চোটে যায়। আমি দাঁতে দাঁত চেপে বলি,'একটু বেশিই বলছেন না আপনারা?'
ওই লোকগুলোর মধ্যে একটা লোক বলে,'এই মাইয়া বেশি তর্ক করবা না কইলুম কিন্তু এখন চুপচাপ আমাদের সাথে আসো।'
সেই ছেলেটা বলে,'এইযে দেখুন আপনাদের কোথাও একটা ভুল হচ্ছে আমরা এইখানে নিব্বা....
'এই মিয়া এতো কথা কউ কেনো?যেটা কইসি ওইটা করো।'
এইখান থেকে কিছুটা দূরে কাজী অফিস ছিলো তাই তারা আমাদের দুইজনকে জোর করে নিয়ে যায় কাজী অফিসে। বাকিটা আপনারা জানেনই।
_______
আমি এখন মলের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি। আজকের এই কুফা দিনে না বের হওয়াই ভালো ছিলো। কেনো যে আম্মুর কথা শুনলাম না,ধ্যাত।কোথাথেকে দৌড়ে দৌড়ে মোমো আমার কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,'এই মেহেক কোথায় ছিলি তুই?তোকে খুজতে খুজতে আমি বেহুশ।'
আমি মোমোকে বলি,'শান্ত হ তুই। বলছি আমি। এতো হাইপার হোস না।'
মোমো বলে,'হাইপার হোস না? হাইপার হওয়ার মতোই কাজ করেছিস তোর কিছু হলে আন্টি আমাকে কতো বকা দিতো জানিস? কোথায় ছিলি তুই?'
'আরে আমি তো এইখানেই ছিলাম। তুই শপিং করছিলি তাই ভাবলাম আমি নিচে এসে ভেলপুরি খেয়ে নেই।'
আমি আর মোমোকে বিয়ের ব্যপারে কিছু বলিনি। শুধু শুধু মেয়েটা চিন্তা করবে আর এই বিয়েটাও আমি মানি না।আমি মোমোকে বিদায় দিয়ে চলে আসলাম বাসায়। বাসায় এসে আমি নিজের রুমে চলে যাই। বাসার থেকে বের হওয়ার সময় ছিলাম অবিবাহিতা আর বাসায় এসে হয়ে গেলাম বিবাহিতা বিষয়টা খুব অদ্ভুত। আমি ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। ফোন নিয়ে এফবিতে লগইন করলাম। এফবি ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎই একটা নামে আমার চোখ আটকিয়ে যায় 'সাদ আনান রোদ।'এই নামটা আর কারো না আমার কয়েক ঘন্টা আগে বিয়ে করা বরের নাম। কৌতুহল নিয়ে তার আইডিতে ঢুকলাম। কিছু ছবি দেখলাম আবার কিছু ছবি সেভও করে নিলাম। তারপর এফবি থেকে লগআউট হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যায় আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙে আমার।
'এই মেয়ে উঠবি না সেই বিকালে এসে কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলি এখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছি উঠ।'
আমি ঘুমু ঘুমু চোখে আম্মুকে বলি,'আম্মু আরেকটু ঘুমাই না!অনেক হয়রান আমি।'
'না আর একটা মিনিটও না। জলদি উঠ আমি চা বানিয়েছি খেয়ে নে।'
আম্মুর জোরাজুরিতে ঘুম থেকে উঠে কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম। আমাকে দেখে মেহেদী ভাই বললেন, 'কিরে মেহু বিকাল থেকে দেখলাম না যে তোকে।'
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আম্মু বলল,'আর বলিস না মেয়েটা শপিং মল থেকে এসে রুমে যে গিয়েছে আর বেরই হলো না।'
আম্মুর কথা শুনে মেহেদী ভাইয়া ভ্রুকুচকে আমার উদ্দেশ্যে বলেন,'কি হয়েছে তোর?'
আমি নড়েচড়ে বলি,'কিছু না। আসলে যে অনেক কিছুই হয়েছে কিভাবে বলবো তোমাদের'
শেষের কথাটা বিরবিরিয়ে বলি যাতে কেউ না শুনতে পায়।
রাতে খাবার টেবিলে,
'মেহেক মা তোমার কি কোনো সপ্ন নেই?'
খাবার খেতে খেতে আব্বু কথাটি বললেন। তার কথা শুনে আমি ভ্রুকুচকে তার দিকে তাকিয়ে বলি,'থাকবে না কেনো?'
'কি করতে চাও তুমি ফিউচারে?'
আমি বেশ গর্ব নিয়ে বলি,'ডক্টর।'
মেহেদী ভাই উস্কানি দিয়ে বলেন,'হেহ সাবধান পরে দেখা যাবে রোগীর জরায়ু বের করতে বলেছে আর তুই বের করবি কিডনি।'
আমি মেহেদী ভাইয়ের কথা শুনে মুখ ফুলিয়ে বলি,'মেহেদী ভাই!!'
আব্বু মেহেদী ভাইয়ের দিকে গরম চোখ করে তাকায়। মেহেদী ভাই তাও মুখ চেপে হাসছে। এইবার আমার মাথায় শয়তানি বুদ্ধি চাপে। আমি আস্তে করে মেহেদী ভাইকে চিমটি দিয়ে খেতে থাকি। মেহেদী ভাই ব্যথায় 'আহ' করে উঠে। আমি খাচ্ছি আর মজা নিচ্ছি। মেহেদী ভাই আমার কান মোড়ে দিয়ে বলে,'এই তুই চিমটি মারলি কেনো রে?'
আমি হেসে বলি,'তুই আমার মজা নিয়েছিস কেনো?'
'আমি তোর বড় তাই আমার অধিকার আছে তোর উপর মজা নেওয়ার।'
আমি ভেংচি কেটে বলি,'তাহলে আমি ছোট আমারও অধিকার আছে তোর সাথে মজার নেওয়ার।'
'এইই আমি না তোর বড় তাই আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি নো তুই তোকারি।'
আমি ভেংচি কেটে বলি,'এই জন্মে তুই আমার থেকে সম্মান পাবি না আর পাইলেও সপ্নে পাবি। হাহাহাহা'
আম্মু এসে আমাদের দুইজনকে ধমক দেয়। আব্বু আমাকে বলে,'তোমার এইচএসসি তো শেষ তাহলে মেডিক্যালে এডমিশন দেওয়া শুরু করো।'
'হুম আব্বু।'
'কোন মেডিক্যালে পড়তে চাও?'
আমি বেশ কিছুক্ষন ভেবে বলি,'ঢাকা মেডিক্যাল।'
'গুড।'
খাওয়া শেষে আমরা যে যার রুমে চলে যাই। আমি নিজের রুমে যেয়ে ফুল স্পিডে গান ছেড়ে ধুরা নাঁচতে থাকি। এটা আমার নিত্যদিনের কাজ। আরো কয়েকটা গানে নেঁচে বিছানায় ঠাস করে পরে ঘুমিয়ে যাই।
........
#চলবে ----------------