খুনি সে | বন্ধু ছাড়াও জীবন চলে | গল্পঃ #মাসিক | Story
কেউ আপনাকে পাঁচ মিনিট সময় দিলে আপনিও তাকে ঠিক পাঁচ মিনিটই সময় দিন৷
আপনার মেসেজ সিন করে রাখলে আপনিও সিন করে রাখুন৷ আপনাকে নক না দিলে আপনিও দিবেন না৷ তার প্রয়োজনে আপনি থাকবেন অথচ আপনার প্রয়োজনে তাকে পাবেন না এর থেকে কষ্ট বোধহয় আর কিছু নেই৷
আত্মসম্মান যদি তার থাকে তাহলে আপনারাও থাকা উচিত৷ দিনের পর দিন আপনি ছ্যাঁচড়ার মতন তাকে পাত্তা দিবেন৷ অথচ আপনি ম*রে গেলেও সে খবর নিবে না৷ভেবে দেখুন আপনি ও কিন্তু কোনো না কোনো দিক থেকে উচ্চাসনে আছেন।আপনাকে যতটা অবজ্ঞা করছে যেন ততটাই গুরুত্ব দেয় সে পন্থা খুঁজুন।আপোষে অনেক সময় কাজ হয়না,তখন মেধা খাটিয়ে কাংখিত জিনিসটাকে নিজের করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যারা একেবারেই পাত্তা দিচ্ছে না দেখবেন,সে মানুষগুলো থেকে দূরে সরে আসুন৷ ভালো থাকবেন৷
ভুলে যাবেন না,বেশি পাত্তা দিলে বিড়াল ও নিজেকে সিংহ ভাবতে শুরু করে।আলগা পিরিতি দেখিয়ে কাউকে বেশি দরদ দেখাতে গেলে তার থেকে অবহেলা ছাড়া অন্য কিছু আশা করা বোকামির বহিঃপ্রকাশ।কেননা,লেবুকে বেশি টিপলে স্বাদ তেতো ই হবে।যার তার ডাকে সাড়া দিবেন না।তাহলে লোকে আপনাকে সস্তা ভাবতে।সবসময় চেষ্টা করুন নিজের ব্যক্তিত্বকে ধরে রাখতে।কেননা আত্নসম্মান সবার আগে।
জীবনে জয়ী হোন,তবে কাউকে ঠকিয়ে না!জীবনে সফল কামী হতে গেলে অবশ্যই আপনার কিছু ভা বন্ধু থাকা লাগবে।তাই বন্ধু নির্বাচনে চতুর হোন।কারন,একজন বিচক্ষণ বন্ধু হাজারটা অজ্ঞ বন্ধুর সমান।যাকে মনে হবে আপনাকে তার প্রয়োজনে প্রিয়জন বানাতে চাচ্ছে তার সাথে সংসর্গ করবেন না।ঠাট্টার ছলেও যদি দেখেন আপনার কোনো প্রিয় মানুষ কিংবা প্রিয় বন্ধু আপনাকে অপমান করছে তবে তার মত মানুষের সাথে ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দিন,বাড়িয়ে দিন সম্পর্কের দুরত্ব।
মনে রাখবেন জ্ঞানীর জাত ধরা যায় কিন্তু মূর্খের মুখ ধরা যায় না।যার তার সাথে সম্পর্ক গড়তে যাবেন না।সবাই আপনার সঠিক মূল্যায়ন করতে জানবে না।আর সবার কাছে আপনি যোগ্য এটা প্রমান করতে যাওয়ার ই কিছু নেই।আকাশে চাঁদ উঠলে তা ঢেকে রাখার উপায় নেই।একদিন সবাই আপনাকে ভালভাবেই চিনবে,সেদিন অতীতে আপনাকে নিয়ে বলা কথাগুলোর জন্য অনুতপ্ত হবে।মানুষের হিংসা যেন ভালবাসা হয়ে ঝড়ে।যার তার সাথে তর্কে যাবেন না।মুর্খের সাথে তর্কে যাওয়া মানে,জীবন থেকে অনেকটা সময় অকারনেই অপচয় করা।জ্ঞানীর সাথে তর্কে গেলে অন্তত তার থেকে কিছু শেখার থাকে।
আজকে দেখবেন অনেকেই আপনাকে তার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করবে।কিন্তু সফল হয়েই দেখুন চারিপাশে আপনজনের অভাব হবে না।দুধের মাছিদের ঠায় দিবেন না আপনার মনে!এমন কিছু করে দেখান যেদিন সেই মানুষটাই আপনি তার খুব কাছের মানুষ,এটা গর্ব করে মানুষকে বলতে চায়।বলবে আরেহ,ওর কথা বলতেছো?সে তো আমার খুব ক্লোজ,আমাদের বন্ধুত্বটা ছোট সময় থেকে।সফলতা বলে আসে না।পরিশ্রমহীন সফলতা কচু পাতার পানির ন্যায়।সফলতা আপনি আসেনা ইহা ধ্রুব সত্য।পরিশ্রম করুন,সঠিক সময়ে সঠিক উপহার সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে দিবেন।
ধরেন ভুলটি সে করছে,তার ভুল করার পর ও উদার মনের পরিচয় দিতে নিজে বার বার মাফ চাইতে যাবেন না।ভুলে যাবেন না যে,একতরফা ভালবাসা হয় না।কেউ আপনাকে পাত্তা না দিলে পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যান যাতে করে সেই লোকটাই আপনার সাথে একটু কথা বলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে!কেউ আপনাকে আঘাত করলে তাকে প্রতিত্তোরে তাকেও কড়াভাবে জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করুন।ভালো থাকতে চাইলে অবশ্য আবেগ টা আপনাকে কমিয়ে ফেলতে হবেই।তা না হলে এই আবেগ ই একদিন আপনাকে নিঃশেষ করে দিবে।
কারো বিশ্বাসের ঘরে চুরি করবেন না।কারন বিশ্বাস জিনিসটা ভালবাসার চেয়েও অনেক দামী।একবার কারো প্রতি আপনার বিশ্বাস উঠে গেলেতবে তা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব!এটাও মনে রাখুন ভাঙ্গা আয়না কভু আগের ন্যায় জোড়া লাগে না।
আরে ভাই একজন মানুষ আপনাকে কভু তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলে আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত সে লোকটিকে ডিঙ্গিয়ে যেতে না পারছেন ততক্ষণ অবধি নিরলস পরিশ্রম করে যান।পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না ভাই।
নিজের অবস্থান এত উঁচুতে নিয়ে যান,যাতে করে সেই অহংকারী মানবটাকে আপনার অবস্থান থেকে একটা কীটের ন্যায় লাগে।চাইলেই যেন পায়ে পিষে মেরে ফেলা আপনার পলক ফেলার সময় মাত্র!সবাই বন্ধু সবাই আপন না!আর গলায় গলায় যার সাথে ভাব সে যে আপনাকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসে তার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না।গলা হাটলেই সবাই বন্ধু হয়না,বন্ধু তো সে ই যার গলা জড়িয়ে কান্না করার অধিকার থাকে।
আপনাকে পেছন থেকে সমালোচনা করে আর সামনাসামনি ভাই ভাই করে এরকম লোকের ই কিন্তু অভাব নাই আপনাদ চারপাশে।সম্ভব হলে এদের লিস্ট তৈরি করুন।যারা বলছে আপনি এ কাজটি পারবেন না কোনোদিন,আপনি সে কাজটি করেই দেখিয়ে দিন যে আপনিও পারেন।তখন আপনার মুখে বলা লাগবে না।আপনার সফলতা দেখেই সে জ্বলবে।সে এমনভাবে জ্বলবে সে আগুনে এক সমুদ্রের পানি ঢেলে দিলেও তা নিভবে না।আপনার সফলতা যেন তার আগুন লাগা গায়ের ডিজেলের ন্যায় মনে হয়।
লক্ষ্য করে দেখবেন,আপনার মাধ্যমে যদি তার পরিচয় ঘটে;তবে সে লোকটাই আপনার থেকে বেশি প্রিয় হয়ে উঠে তার কাছে!আপনি যাকে বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবেন,খুঁজ নিয়ে দেখবেন তার ও অন্য একজন বেস্ট ফ্রেন্ড আছে।আপনাকে পাত্তা না দেয়া ধনীর দুলালীর চাইতে যখন তখন ডাকলে পাওয়া যায় এরকম গরিবের রাজপুত্র ই বন্ধু হিসেবে শ্রেয়!ছেছড়া টাইপের বন্ধুদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দিবেন না।
কোনো ব্যক্তি আপনাকে একটা মেসেজ দেয়ার পর সেটা আবার আনসেন্ট করে দিলে,ভেবে নিবেন আপনি এখনো তার কাছে বিশ্বস্ত কোনো পাত্র নন!যদি তাই হতেন তাহলে সে কিছু সেন্ট করার পর সেটা আনসেন্ট করতো না।
বিশ্বাস জিনিসটা ভালবাসার চেয়েও দামী।বিশ্বাস কিনে নেয়া যায় না,অর্জন করতে হয়।বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।পৃথিবীতে সবাইকে বিশ্বাস করা যায় না,আবার কাউকে না কাউকে আপনার বিশ্বাস করাই লাগবে।তাই হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করুন আপনি যার সাথে অন্তরাঙ্গ সম্পর্ক,আদৌও আপনি তার বিশ্বাসী মানবের যোগ্য অর্জন করতে পেরেছেন কিনা!সাফ কথা এমন কোনো মেসেজ/ছবি/কোনো কিছুই পাঠানোর দরকার নাই,যেটা পাঠানোর পর আবার আনসেন্ট এর দরকার পড়বে।আমাকে এরকম কোনো মেসেজ দেয়ার প্রয়োজন ই মনে কইরেন না।সাফ করা আনসেন্ট করলে নিজেকে অসহায়ের ন্যায় লাগে!মনে মনে ভাবি,কিরে ভাই আমি এতদিনে কি করলাম?আজও আমার প্রিয় মানুষটা আমারে বিশ্বাস ই করতে পারলো না।তবে কি আমি ব্যর্থ!?
হয়তো এমনভাবে দিয়ে দিন যাতে ওই টাকা ফেরত না চাইতে হয়।ধার দিলেন মানেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরানোর ব্যবস্থা নিজ হাতেই করলেন।ভাই রে,জীবনটা ওতোটা ও সহজ না।কেউ একজন(আশরাফুল জয়) আমাকে বলেছিল বরকত ভাই,'তোমার তো অনেক বন্ধু,আর দশটা বছর পর দেইখো তো ক'জন ই না থাকে'সেদিন ওর কথাটা আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিলো বারবার!ভেবে দেখলাম,এখন ই তো একটু বিপদে পরে মেসেজ দিলে'দোস্ত তোর হেল্প লাগবো' তখন ই ভয়ে মেসেজ সিন করে না।
তবে যারা আমাকে কাছ থেকে চিনে যারা অবশ্য জানে যে,
এমনকি কেউ বলতে পারবে না তার থেকে একটা চকলেট ও খেয়েছি"যদি চকলেট খেয়েও থাকি তবে শতভাগ নিশ্চয়তা এই যে,আমি চকলেটের বদৌলতে তাকে আইসক্রিম খাইয়েছি।আর যদি কেউ আমাকে একটা মিষ্টি খাইয়েছে কিন্তু তাকে আমি একটা চকলেট ও খাওয়ায়নি,তবে বুঝে নিতে হবে আমাকে মিষ্টি খাওয়ানোর পিছনেও তার কোনো না কোনো স্বার্থ ছিল।এবং সে যেহেতু আমার মাধ্যমেই তার স্বার্থ উদ্ধার করবে তাই তার মিষ্টি খেয়েও তাকে কিছু খাওয়াইনাই।
মা ছাড়া পৃথিবীতে আপনাকে প্রায় সবাই স্বার্থ হাসিলের তরে ভালবাসবে।তবে কোনো কোনো সময় এ স্বার্থের ঊর্ধ্বে চলে যায় তাদের ভালবাসা।আজ আমার থেকে এগিয়ে তাই নিজেকে বিশাল ভাবছো?তোমার মত অজস্র ছাত্রকে অকালেই ঝড়তে দেখেছি এবং বার বার ফেইল করা লোকটাকেও দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাবান রাষ্ট্রপতি হতে দেখেছি/শুনেছি।-(দেবাঞ্জন)।
পরামর্শ বক্তব্য-কেউ আপনার জন্য হাটু পানিতে নামলে তার জন্য বুক অবধি নামার জন্য প্রস্তুত থাকুন,কারন বিপদের সময় মানুষ যাকে পাশে পায় তাকে বুক উজাড় করে ভালবাসে।আপনি বিনয়ী হোন,মানুষ আপনাকে সেচ্ছায় আপন করে নিবে।
কিছু মানুষ এতোই 'মিশুক' যে এদের নিজের ক্লাসের ফ্রেন্ড সার্কেল ছাড়াও 'সিনিয়র' একটা ফ্রেন্ড সার্কেল থাকে,জুনিয়র একটা ফ্রেন্ড সার্কেল থাকে!এরা ফ্রেন্ড এর সাথেও আড্ডা দিতে পারে আবার ফ্রেন্ড এর বাপের সাথেও আড্ডা দিতে পারে!সবার সাথে মিশতে পারাও একটা আর্ট।মনে রাখবেন সমালোচনা মানুষ তাকে নিয়েই করে যার যোগ্যতা আছে।আপনি সফল হলে সেই সমালোচকরাই একদিন মালা দিয়ে বরন করতে যাবে।
দুঃসময়ে কে কি ব্যবহার করেছে তা স্মরণে রাখুন।ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে দরকার পড়লে ডায়রিতে লিখে রাখুন।নিজের থেকে খুব নিম্ন আসনের কারো সাথেও সম্পর্ক গড়তে যাবেন না।তবে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলেও লজ্জায় পড়া লাগতে পারে তার কর্মকান্ডে!কোথায় কি বলতে হবে সে যোগ্যতাই যার নাই,সে কি করে আপনার মত একজন মানুষের বন্ধু হতে পারে?
কৃপন লোককে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করা হবে আপনার জীবনের আরেকটা বড় ভুল।এরকম ছেছড়া টাইপের কিছু বন্ধুও থাকে,যাদের হিউজ পরিমান টাকা থাকা সত্বেও বরাবরই আপনার টাকায় রেস্টুরেন্টে খেয়ে চলে আসবে।কিন্তু কখনো সে নিজে টাকা পরিশোধ তো করবেই না।তার উপর সে নিজ ইচ্ছা মত যা তা অর্ডার করবে।এবার আপনার কাছে সে পরিমান অর্থ থাকুক বা না থাকুক।এরকম নির্লজ্জদের সাথে আপনার বাস হলে তাদের থেকে নিজেকে সড়িয়ে ফেলুন।
মুখে বড় বড় কথা বলে এরকম ও অনেকেই থাকে।দিনশেষে খোঁজ নিয়ে দেখ মাস পেড়িয়ে যায় তবুও ধার নেয়া সেই বন্ধুটার নাম গন্ধ নাই।ধার দিলে এই ভোগান্তিতে আপনাকে নিশ্চয়ই পড়তে হবে যে,কখনো বিপদে পড়ে তাকে কল দিলে সে কল রিসিভ করবে না।সে ভাববে আপনি টাকার জন্য কল করেছেন!তার থেকে কি ভালো না টাকা আদান-প্রদান টোটালি বন্ধ করে দেয়া?
টাকা ছাড়া জীবনে অন্য কোনো হেল্প চেয়ে দেখান,তারপর দেখেন করি কিনা!যদিও জীবনে বহুবার মানুষের সাহায্য করে বরং অপমানিত/অপদস্ত ই হয়েছি!মানুষ জাতিদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু বলার নাই!
কথাগুলো শুনে আমাকে নিয়ে অনেকের ই নেতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হবে।তবে তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য এই যে'আমি সদা স্পষ্টবাদী মানুষ ভাই'।জানি অনুমতি ছাড়াই আমার এই লেখাগুলোকে অনেকেই কপি করবে,তাদের মত লোকদের সাথেও যাবেন না।কারন তারা আপনার পরিশ্রম কে নিমিষেই ধূলিসাৎ করতে সক্ষম।সম্পর্কে সবসময় উদার চিন্তা না করে মাঝে মাঝে ব্যবসায়ী হোন৷
সদা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন,তবেই জীবন সুন্দর হবে।
সময় পরিবর্তনশীল,আর মানুষ বলদায়,
আর বরকত পাল্টায়।
=============
কিছুদিন আগে আমার ফার্মেসীতে দুইটা বোরকা পরা মেয়ে আসে নেপকিন কিনতে।দোকানে প্রচন্ড ভিড় থাকায় মেয়ে দুটো ভদ্রভাবেই এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল।আমি ওদের বয়সের ব্যাপারে অজানা ছিলাম কেননা মেয়ে দুটো সম্পূর্ন পর্দার ভিতরে ছিল।মেয়ে হিসেবে শুধু শনাক্ত করতে পেরেছি একটা মেয়ের গলার আওয়াজ শুনে তাও খুব আস্তে কথা বলছিলো। .
দোকানের ভিড় কমার সাথে সাথেই আমি তাদের কাছে জিজ্ঞাস করি তাদের কি লাগবে।মেয়ে দুইটার মাঝে একজন আমাকে আস্তে বলে নেপকিন লাগবে।আমি উপরের তাক থেকে নেপকিন নামাচ্ছিলাম এমন সময় আমার দোকানের বরারবর বটগাছের নিচে বসে থাকা সিয়াম বলে উঠেঃ
>ও হিমেল!!কি দাও,রুটি নাকি?তো রুটি বিক্রি শুরু করলা কবে থাইকা?
সিয়ামের সাথে রাব্বি বসে ছিল।কথাটা বলার পর দুজনই উচ্চস্বরে হেসে উঠে।যেন কি এক মহৎ কথা বলে ফেলেছে।
...
আমি ভ্রু-কুচকে ওদের দিকে চাইলাম।মেয়ে দুইটাও ওদের দিকে চাইলো।ওরা আবার বলা শুরু করলঃ
>কি দিন আসলো রে ভাই ফার্মেসীতেও আজকাল রুটি বিক্রি করা শুরু করসে।হায়রে!! আমি ওদের কথাগুলো শুনে চুপ করেই রইলাম। এলাকার চরম বখাটে ওরা,ওদের থামানো পসিবল না।তাই চুপ করাটাই ভাল মনে করলাম। .
মেয়ে দুইটার মাঝে একজন হয়ত রেগে গিয়েছিল তাই ওদের দিকে একটু অগ্রসর হতে গেল আর ওমনিতেই সাথে থাকা মেয়েটা হাতে ধরে রাখলো।মেয়ে দুইটা দাঁড়িয়ে আমার কাছ থেকে নেপকিনের প্যাকেটটা নিয়ে তাদের ব্যাগে ভরে।আর আমার টাকাটা দিয়ে সিয়াম আর রাব্বির উদ্দেশ্যে যায়। মেয়ে দুইটা সামনে যখন যাচ্ছিলো আমার মনে হচ্ছিলো গিয়েই দুইটার গালে কষিয়ে চড় বসাবে। কিন্তু মেয়ে দুটো গিয়ে রাব্বি আর সিয়ামের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।মেয়ে দুটো সামনে যাওয়াতে ওদের হাসি বন্ধ হয়ে যায় ওরা বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়।এটা যেন কেমন একটা ব্যাপার যে আমাদের অনিচ্ছাতেও হুজুর আর পর্দাবতীদের সামনে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। .
হয়ত আল্লাহ তাদের সম্মান এভাবেই বুঝিয়ে দেয়। উপস্থিত দুটা মেয়ের মধ্যে একজন ছেলে দুইটার উদ্দেশ্যে সালাম জানায়।ওরা মেয়ে দুইটাকে টিজ করল আর মেয়ে দুইটা তার উত্তরে সালাম জানালো।আমি অবাক হয়ে দোকান থেকে বের হয়ে ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।সিয়াম আর রাব্বি কাঁচুমাচু অবস্থায় মেয়েটার সালামের জবাব নিলো।তারপর মেয়েটা বললঃ
>ভাই আপনারা কি মুসলিম?
.
চলবে..?
গল্পঃ #মাসিক
পর্ব ১
মিনহাজ মাহমুদ
===================
তুমি যহন কামে যাও দুলাভাই আমার শরীলে হাত দেয় বুবু !
,
এগারো বছরের ছোট বোনের মুখে এমন কথা শুনে থমকে দাঁড়ায় পারুল । বোনকে কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করে ,
,
"নীলু , বইন আমার কি কও এই সব। উনি তোমার ভাইয়ের মতো। তোমারে অনেক আদর করে ।
,
,
" বুবু দ্যাহো দুলাভাই কামড় দিয়ে আমারে লাল করে দিছে। হেই দিন তুমি কামে যাওয়ার পর দুলাভাই আমারে কইলো নীলু , পানি দে , আমি পানি নিয়া যাইতেই আমারে জোর কইরা শুয়াইয়া দিছে । আমি জোরাজুরি করতেই একখান কামড় দিছে বুবু ।
,
পারুল চমকে উঠলো । কি শুনছে ছোট বোনের মুখে এই সব। একমাত্র ছোট বোন নীলু। বাবা মা ছোট থাকতেই মারা যায় । বাসায় বাসায় কাজ করে দুজনের পেট চালাতো পারুল । একদিন ফিরোজের সাথে পরিচয় । ফিরোজ ছিল কেয়ারটেকার। সেই বাসায় কাজ করতো পারুল । প্রথম প্রথম লজ্জায় কথা বলতে পারতো না ফিরোজের সাথে । আস্তে আস্তে দুজনের কাছে আসা তারপর বিয়ে । বিয়ের পর থেকেই নীলু ওদের কাছে । এক বছর হয়েছে পারুল আর ফিরোজের বিয়ে । পারুল সকাল হলেই রান্না সেরে চলে যায় কাজে। ফিরোজ যে বাসার কেয়ারটেকার সে বাসায় ঘর উঠিয়ে থাকতে দিয়েছে মালিক ।
,
তাই ফিরোজ সারা দিন বাড়িতে থাকে । নীলুকে একটা স্কুল এ ভর্তি করেছে পারুল । সকাল থেকে বারোটা পর্যন্ত স্কুল । বাকিটা সময় ঘরের টুকটাক কাজ করে । নীলু দেখতে চমৎকার । গায়ের রঙ ধবধবে সুন্দর । কিন্তু পারুলের গায়ের রঙ একটু চাপা। তাছাড়া বাকিটা দুই বোনের একরকম দেখতে । টানাটানা চেহারা । কিন্তু ইদানীং নীলুর যৌবন ফুটে উঠছে । এগারো বছরে পা দিয়েছে সেদিন । ফিরোজ দিন দিন নীলুর দিকে কামনার দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে । যেটা আস্তে আস্তে ভয়ঙ্কর রুপ নিতে চলেছে ।
,
পারুল কাজে গেলেই এটা ওটার বাহানায় কাছে ডাকে নীলুকে ফিরোজ । ওর কচি কচি চেহারার দিকে তাকিয়ে কামনার রস ফেলে । শরীরে হাত দেয় আর বলে ,
,
" নীলু , তোর শরীল এতো গরম ক্যান ? দেহি দেহি কাছে আয়। তোর জ্বর আইলো নাকি ।
,
নীলু বুঝতে পারে ফিরোজ আজও ওকে বিছানায় নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে চাইবে । তাইতো কিছু না বলে দৌড়াতে দৌড়াতে বাইরে চলে আসে । অপেক্ষা করে বুবুর জন্য । আজ বুবুকে সব বলবে নীলু।
,
সব কিছু দেখে শুনে পারুল থমকে যায় । ছি ছি এটা কি শুনছে । ফিরোজ এতোটা জঘন্য হয় কিভাবে । কাজ থেকে সবেমাত্র এসেছে পারুল । মনটা এক অজানার ছটফট করছে । কি করবে এখন পারুল ।নীলুর যে পারুল ছাড়া কেউ নেই। এমন সময় ফিরোজ ঘরে এলো । এসেই পারুল কে দেখে বললো ,
,
" পারু , তুমি আইছো । নীলুর গায়ে জ্বর দেখলাম । তুমি দ্যাহোতো মাইয়াডার কি হইলো। জ্বর হইলে ওরে ডাক্তারের কাছে নিতে হইবো।
,
পারুল ফিরোজের এমন কথা শুনে একটু অবাক হলো। কৈ ফিরোজের কথায় তো কোনও খারাপ কিছু নেই। তাইলে কি নীলু ছোট মানুষ হইয়া ভুল কিছু কইলো। ফিরোজ তো নীলুর ভালোই চায়। নীলু হয়তো ওর দুলাভাইরে ভয় পায়। তাই এমন ভুল বুঝো। ছোট বেলা থেইকা মাইয়াডা এমন । সহজে কারো লগে মিশতে চায়না।
,
তাইতো পারুল ব্যাপার টা সহজ ভাবে নিয়ে নীলুর গায়ে হাত দিয়ে দেখে সত্যি জ্বর ।
আরো শিওর হয়ে গেল নীলু ফিরোজকে ভুল বুঝছে। নীলুকে পারুল বললো ,
,
" নীলু , তোর গায়ে তো সত্যি জ্বর । চল তোরে ওষুধ আইনা দেই। "
,
এই বলেই পারুল নীলুকে নিয়ে ডক্টর দেখাতে চলে গেল । সুচতুর ফিরোজ মিটমিট করে হেসে দিয়ে বললো ,
,
" নীলু তুই যতোই আমার নামে নাশিল করোস তোরে আমি একদিন সত্যি সত্যি বিছানায় নিমু। "
,
যেতে যেতে পারুল নীলুকে বললো ,
,
" নীলু তুই মানুষটার নামে এমন মিছা কতা কই তে পারলি। তোর কতো খেয়াল রাখে দেখছোস।
,
নীলু বললো ,
,
" বুবু তুমি আমার কথা বিশ্বাস করো দুলাভাই আমারে খালি বিছানায় ডাকে। কাছে গেলে শরিলে হাত দেয়।"
,
" হ আমি বুচছি ক্যান শরীলে হাত দেয়। এই ছেমরি শরীলে হাত না দিলে বুঝলো ক্যামনে তোর জ্বর । হেই তোরে ভাল জানে। নাইলে ডাক্তার দ্যাহোনের কথা কি কইতো।
,
পারুল ছোট্ট নীলুকে বুঝিয়ে বললো ফিরোজ একেবারে সাধাসিধে। ভুল টা নীলুর ।
,
দুইদিন পর।
,
" খুন খুন ,
,
সকাল থেকে পুলিশের গাড়ি এসে ভিড় করেছে পারুলের ঘরের সামনে । লোকজন গিজগিজ করছে । ফিরোজ খুন হয়েছে । কে খুন করেছে এখন জানা যাইনি। নীলু আর পারুলকে জিজ্ঞাসা বাদ করা হচ্ছে । কিন্তু দুজনের একই কথা আমি খুন করেছি। সবাই বলাবলি করছে দুইবোন মিলে এই কাজ করেছে অথবা কেউ এদের দিয়ে করিয়েছে।
,
পারুল সেই থেকেই নিথর হয়ে লাশের দিকে তাকিয়ে আছে । খুব জঘন্য ভাবে হত্যা করা হয়েছে । ফিরোজের পুরুষাঙ্গ কিছু একটা দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে । গলায় ধারালো বঁটির চিহ্ন । নীলু সেই থেকে কেঁদেই যাচ্ছে আর বলছে ,
,
" দুলাভাইরে আমি খুন করছি। আমারে ধইরা নিয়ে যান। আমার বুবু কিছু করে নাই। "
,
পারুল দৌড়ে এসে নীলুকে একটা জোরে চড় দিয়ে বললো ,
,
" এই ছেমরি তুই খুনের কি বুঝিস। ওরে আমি মারছি। রাতের অন্ধকারে ধারালো ছুরি দিয়া। আপনেরা আমারে ধরেন আমি মারছি আমি ওরে মারছি।
,
--- _খুনি_সে
---পর্ব এক
