Story: Hello Sir হ্যালো স্যার | Kalo Vuna | কালো ভুনা
–ওয়ে হ্যালো,,এত্ত ভাব কিসের আপনার
-বুঝলাম না
-ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকেই খেয়াল করছি মেয়েদের কে এড়িয়ে চলেন,,প্রব্লেমটা কি
-আমি এত্ত কিছুর কইফিয়ত আপনাকে দেবার প্রয়োজন মনে করিনা
-কিন্তু আমিতো এর রহস্য জানার প্রয়োজন মনে করি
-বাসায় যেতে লেট হয়ে যাচ্ছে,,ভালো থাকবেন বাই
-না বললে আমি আপনার পিছু পিছু আপনার বাসায় চলে যাবো
-আজব মেয়েতো আপনি,,বিদেয় হনতো
-এইযে মিস্টার আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই,,হুহ
-ধুরর
-কি হলো বলেন
-এমনি
-এমনি তো হতেই পারেনা,,কোন মেয়ে স্যাকা দিছে নাকি (বলেই হাসতে লাগলো)
-আপনি যেটা ইচ্ছা ভাবতে থাকেন
(বলেই সেখান থেকে কোন ভাবে চলে আসলাম।।আসলে মেয়েদের থেকে দূরে থাকার রহস্য একটা আছে।।
যেদিন চারি দিকে সব ফ্রেন্ড দে স্যাকা খাওয়ার গল্প শুনলাম,,সেদিনি শপথ করছিলাম জিএফ তো দূরের কথা মেয়েদের
আশেপাশেও ভিড়বো না।।তাই সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বিন্দাস একটা সিংগেল লাইফ
ইনজয় করছি।।)
-মামা কাল দেখলাম একটা মেয়ের সাথে কথা বলছিস,,ব্যাপার কি তুইও কি ফেসে গেলি নাকি
-ধুরর ওইসব প্রেম তুরা কর,,আমার স্যাকা খাওয়া শখ না
-হুম মামা ডুবে ডুবে জল খেতে চাও
(বলেই সবাই হেসে দিলো।। এমন সময় দেখি কালকের ওই মেয়েটা যাচ্ছে।।)
-মামা দেখ এই মেয়েটা না
-মেয়বি
(হারামী গুলা চিল্লান দিয়ে বলে উঠলো মামা দেখ ভাবি যাচ্ছে।। মেয়েটা সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেলো।। অবস্থা খারাপ হতে
পারে ভেবে সব গুলা দৌড় দিয়ে বগার পাড় হলো।।রয়ে গেলাম শুধু আমি।। মেয়েটা আমার সামনে এসে)
-ওরা কি বললো
-ক্যানো শুনতে পাননি,,কাল পর্যন্ত তো ভালোভাবেই শুনতে পাচ্ছিলেন
-ওরা আমাকে ভাবি বললো ক্যান
-ওদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন
-বলার আগে আপনায় তো মামা বলেছিলো
-হ্যা,,তো
-ওরা আমায় আপনার সুবাদে ভাবী বলেছে
-একটু ভেবে দেখেন তো,,ওরা আমাকে মামা বলছে।।তাহলে আমার সুবাদে বললে অবশ্যই আপনায় মামী বলতো ভাবী না
-ধ্যাত
(বলেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।।
সাথে সাথে হারামী গুলা হাজীর)
-কি মামু কাহিনী কি সেট নাকি
-হালায়রা বিপদে ফেলে পালাস,,আবার দূর থিকা মজাও নিস
-হ প্রেম করবা আবার কাউরে জানাবানা,,এহন থিকা রাস্তায় দেখলেই ভাবী কমু।। এইটাই তোর শাস্তি
-কসম দোস্ত মেয়েটারে চিনিওনা
-এমন কসম ডেইলি কাটি মামু,,আমাগো মামু বানাইনা অতো সহজ না (তারপর হালায়রা আরো কিছু সময় পচাইলো।।
নিরীহ ছেলের মতন শুধু শুনলাম।।)
(তারপরের দিন দুই ক্লাস কইরে কেবল বেড় হইছি আর মেয়েটা ডাক)
-এই এদিকে শুনুন
-হ্যা বলেন
-আপনার নামটা কি যেন
-নীল।। ক্যানো!!
-না এমনি।। আমি মিম
-ওহ্
-চলুন না একটু কোথাও গিয়ে বসি
-সরি,,অন্য কাউকে বলেন
-চুপচাপ আসবেন কিনা
-না আসবোনা
(omg ম্যাইয়ার সাহস কী!!আমার কলার চেপে টেনে নিয়ে যাচ্ছে)
-এই ছাড়ুন।।কি করছেন!!সবাই দেখে কি ভাবছে
-তাহলে ভালো ভাবে পাশাপাশি হাঁটুন
-হাঁটছি তো।।এবার ছাড়ুন
(তারপর নিরীহের মতন মেয়েটার পাশে হাঁটতে লাগলাম।। পেছনে তাকিয়ে দেখি হারামী ফ্রেন্ড গুলা হেসে গড়াগড়ি
খাচ্ছে।।)
-এখানে একদম নিরিবিলি,,এখানেই বসা যাক
-আচ্ছা
-হুম তো মিস্টার নীল মেয়েতে আপনার কিসের এত্ত এলার্জি
-মেয়েরা মায়াবী ছলনাময়ী।। ফুলের মতন সুন্দর,,কিন্তু সাপের চেয়েও বিষাক্ত।। তাদের থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততোটাই better
(মেয়েটা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে চেয়ে আছে।।মনে হয় ভুল যায়গায় ভুল কিছু বইলে ফেলাইলাম।।
চলবে,,,,,
....
....
#ভার্সিটির_গুন্ডি_মেয়ের_ভালোবাসা
#পার্টঃ১
============ 00 ============ 00 ================== 00 ====================
ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করছি একটা কালো জামা পড়া মেয়ে আমাকে ফলো করছে। চেহারাটা খুব কিউট তারউপর আবার কালো ফ্রেমের চশমা পড়ে আছে। আমি তেমন গুরুত্ব না দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছিলাম, তখনই দৌড়ে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
--- তোমাকে আজ প্রায় পনেরো দিন ধরে ফলো করতেছি। প্রতিদিনই তুমি উধাও হয়ে যাও। তোমার সাথে হেঁটে কুলাতে পারি না। কিন্তু আজকে আর ছাড়বো না বাবু।
--- বাবু!
--- হ্যাঁ বাবু! চলো ঐ গাছের নিচে ব্যাঞ্চটাতে গিয়ে বসি।
--- আমি এখন বাসায় যাবো। ক্লাস করতে করতে খুব ক্লান্ত।
--- এই চুপ! ক্লাস কি তুমি একাই করো নাকি? আমি করি না? চুপচাপ আমার সাথে গিয়ে ব্যাঞ্চে বসবে আসো।
এই মেয়ে তো দেখছি আমাকে ধমকও দিচ্ছে। হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে ব্যাঞ্চটাতে বসালো আমাকে। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কে এই মেয়ে, কোত্থেকে এলো এই মেয়ে!
--- কি হয়েছে এবার একটু বলবেন কাইন্ডলি?
--- আসলে তেমন কিছুই হয়নি। জাস্ট তুমি আমার সাথে প্রেম করবা।
আমার চোখ কপালে উঠে গেছে অলরেডি। কি বলছে এই মেয়ে! চিনি না জানি না এসে বলছে প্রেম করতে!
--- আমি করবো না আপনার সাথে প্রেম। আমার কোনো প্রেম ঠেম করার ইচ্ছে নেই।
--- আমি তো তোমার ইচ্ছের কথা জানতে চাইনি। তুমি শুধু প্রেম করবা আমার সাথে এতটুকুই জানি।
--- আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এই বলে উঠে চলে আসছিলাম, তখন আবার হাত ধরে টান দিয়ে বসিয়ে শুরু করে দিলো,
--- শুনো আমরা চার বছর প্রেম করবো তারপর বিয়ে।
--- আমি আপনার সাথে প্রেম করতে চাই না।
--- বিয়ের রাতে তুমি আমাকে সারারাত গল্প শুনাবা। কয়টা মেয়ের সাথে লুতুপুতু করেছো সেই গল্প শুনাবা আর সব শুনে আমি তোমার দাত ভেঙে দেবো।
--- আরে....
--- তারপর দুই দিন তুমি রেস্ট করবা। বিয়ের পর দুইদিন তো রেস্ট করতেই হয়।
--- দেখেন....
--- দুই দিন শেষ হলে তুমি ভালো একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিবা। তারপর চাকরিটা হয়ে গেলে তুমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানাবা।
--- শুনুন....
--- নাস্তা বানিয়ে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দিবা। যদি না উঠতে চাই, তাহলে তুমি আমার এই গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁটে আলতো চুমু দিয়ে আরেকবার ডাক দিবা, দেখবা আমি সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে গেছি।
--- আপনি....
---- তারপর আমাকে কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে যাবা। টুথব্রাশ দিয়ে আমার দাত ব্রাশ করাই দিবা। দেন আমাকে আবার কোলে করে নাস্তার টেবিলে নিয়ে যাবা।
--- আমার লেট হয়ে....
--- তারপর খুব যতনে, খুব আদরে, খুব ভালোবেসে আমাকে নাস্তা খাওয়াই দিবা। নাস্তা খাওয়া শেষে আমার টোল পড়া গালে দুই গালে দুইটা চুমু দিবা।
আমিও এবার তার কথায় সাই দেয়া শুরু করলাম।
--- তারপর? তারপর?
--- তারপর তুমি সবকিছু গুছিয়ে অফিসে চলে যাবা। সারাদিন অফিসে প্রচুর কাজ করে রাতে বাসায় ফেরার সময় আমার জন্য সাদা কাঠগোলাপ নিয়ে আসবা।
--- হুম, তারপর?
--- তারপর রাতের খাবার রান্না করে আমাকে খুব ভালোবেসে খাওয়াই দিবা। ছুটির দিনগুলোতে ঘরের আনাচেকানাচে পরিষ্কার করবা। ময়লা জামাকাপড়গুলো ধুয়ে দিবা আর আমাকে শপিং করার জন্য টাকা দিবা।আমি বান্ধবীদের নিয়ে শপিং করতে যাবো। তারপর একসাথে সবাই মিলে টিএসসি যাবো ঘুরতে। রাতে আমার বান্ধবীদেরকে বাসায় নিয়ে আসবো, তুমি তাদের জন্য ভালো করে খাবার রান্না করে রাখবা। কোনো হেরফের যেন না হয়।
--- আচ্ছা, তারপর?
--- তারপর আর কি! এভাবেই সারাজীবন চলবে। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসবো। খুব ভালোবেসে সারা রাত জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।
--- আরো একটা আবদার করতে ভুলে গেছেন আপনি।
--- কি? কি সেটা বাবু?
--- বিয়ের পর আমিই প্রেগন্যান্ট হবো। দশ মাস আমার পেটে বাচ্চাটাকে খুব যতনে রেখে দেবো। যখন প্রসব বেদনা উঠবে, তখন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করবো। চিৎকার দিয়ে কান্না করবো। তারপর আমি নিজেই হসপিটালে চলে যাবো এবং খুব ফুটফুটে একটা বাচ্চা প্রসব করবো। দেখতে একদম আপনার মতো কিউটের ডিব্বা হবে ইনশাআল্লাহ। মাথাটা শুধু আপনার মতো তারছিড়া না হলেই হবে।
অণুগল্পঃ আবদার
#আসাদ
================ 00 ================ 00 ============= 00 ================
আমি একবার আমার অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য আটটা ছোট ছোট সাদা মাগুর মাছ কিনেছিলাম। ছোট অবস্থায় খুব একটা সমস্যা না করলেও মাছগুলো যখন বড় হল, তখন রাক্ষুসে মাছের স্বভাব অনুযায়ী অ্যাকোয়ারিয়ামের বাকি সব মাছগুলোকে একে একে সাবাড় করে ফেলল। এত কষ্টের টাকায় কেনা মাছগুলো খেয়ে ফেলেছে দেখে আমিও বেশ রেগে ছিলাম ওদের উপর। এমনকি রাগ করে বেশ কিছুদিন খাবার দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখি ওদের।
আর ঠিক তখনই ওদের মধ্যে বেশ আশ্চর্যজনক একটি বিষয় লক্ষ্য করি আমি। আটটা মাছের মধ্যে যে মাছটি সব থেকে দুর্বল, বাকি সাতটি মাছ মিলে ওই মাছটি কে আক্রমণ করা শুরু করলো। প্রথমে ওর পাখনা লেজ আর কানকোতে বার বার কামড় দিয়ে দুর্বল করে ফেলল ওকে। তারপর ওর নিস্তেজ শরীরটা একটু নেতিয়ে পড়তেই বাকি মাছ গুলো এসে কামড়ে কামড়ে ওর শরীর থেকে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচ্ছিল। শেষমেষ মাথার একটা বড় টুকরো বাদে খুব একটা কিছু অবশিষ্ট ছিল না ওর। সেটিও একটু পর সবথেকে বড় মাছটি একবারেই মুখে পুরে গলাধঃকরণ করে নেয়।
এইতো গেল মাছের গল্প, এবার আসুন এক পাখির গল্প শুনি। আপনার আমার সকলের চেনা জানা পঙ্খিরাজ এক ঈগলের গল্প শুনি চলুন। ডকুমেন্টারিটা দেখেছিলাম খুব সম্ভবত ডিসকভারী চ্যানেলে। একটি ঈগল পাখির তিনটে বাচ্চা ছিল। ঈগলটি যে পরিমাণ খাবার আনত, তাতে তিনটে ছানার বেশ টানাটানি হয়ে যেত। বাচ্চা তিনটির মধ্যে একটি ছিল আবার বেশ দুর্বল।
বাসায় যখন মা পাখিটি থাকত না, তখন সবল বাচ্চা দুইটি দুর্বল বাচ্চাটিকে বারবার ঠোঁট আর নখ দিয়ে আঘাত করতো। এর থেকেও আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল যখন মা পাখিটি খাবার নিয়ে এসে দুর্বল বাচ্চাটিকে আহত অবস্থায় দেখল, সে তখন তার সেই দুর্বল বাচ্চাটিকে খাবার না দিয়ে বাকি সবল বাচ্চাগুলোকেই খাবার দিত। এর কিছুদিন পর এমনই একদিন যখন মা পাখিটি বাসায় ছিল না, তখন সবল বাচ্চা দুটি আবার দুর্বল বাচ্চাটিকে ঠোকরাতে শুরু করে।
ওদের আঘাতে আঘাতে অনাহারে থাকা ক্ষুধার্ত দুর্বল বাচ্চাটি এক সময় মারা যায়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর মা পাখি অল্প কিছু খাবার নিয়ে বাসায় ফেরে। মায়ের আচরণ দেখলে বোঝাই যাচ্ছিল যে মৃত বাচ্চাটিকে নিয়ে তার খুব একটা ভ্রুক্ষেপ নেই। সে তার সবল বাচ্চা দুটিকেই খাবারগুলো খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। কিন্তু খাবার অল্প হওয়াতে খাওয়ানোর পরেও বাচ্চা দুটির খাবারের জন্য আঁ আঁ করা বন্ধ হচ্ছিল না। আর ঠিক এরপরেই পৃথিবীর সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনাটি দেখলাম আমি। মা ঈগল পাখিটি, তার ধারালো ঠোঁট দিয়ে, মৃত বাচ্চাটির শরীর থেকে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে জীবিত বাচ্চা দুটিকে খাওয়াতে শুরু করল...
মানুষ যতই প্রবাদের লেখক হোক না কেন, আমার মনে হয় প্রকৃতিই হলো সকল প্রবাদের প্রকৃত জননী। পৃথিবীতে শক্তের ভক্ত কতজন আমি সঠিক জানিনা, তবে নরমের যম সবাই। তাতে সে আপন মা হলেও।
নরমের যম সবাই
============= 00 ============= 00 ============== 00 ============
কিছু মেয়ে আছে যারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে খুবই সিরিয়াস থাকে সব সময় । এরা এতো বেশী সিরিয়াস যে প্রিয় মানুষটি কষ্ট দিলে অবহেলা করলে কিংবা তার অপছন্দের কাজ করলে প্রচুর রেগে যাবে ।
এবং এই রাগ টাই তার প্রিয় মানুষকে দেখাবে । কিন্তু এই রাগের আড়ালেও কান্না কাটি করবে কখন আপনি বুঝতেও পারবেন না এতো রেগে থাকা মেয়ে টাও কান্না করতে পারে !
এরা সাধারনত খুবই হিংসুটে হয় । এদের হিংসার একটাই কারন তার প্রিয় মানুষটির পাশে অন্য কোন মেয়ে । মেয়েরা তার প্রিয় মানুষের পাশে নিজের ছায়া কেও হিংসা করে ।
আপনি যদি কোন মেয়েকে একটু বেশী গুরুত্ব দেন বা একটু কথা বলেন বেশী আপনার সামনে হয়তো হাসি মুখে মেনে নিবে কিন্তু আড়ালে সে প্রচুর পরিমানে কষ্ট চেপে রাখবে । মাঝে মাঝে সবার আড়ালে কান্না করবে । আর যখন এগুলা দেখতে দেখতে তার ধৈর্যের বাধ ভেঙে যায় তখন সে ঝগড়া করবে আপনাকে রাগ দেখাবে । আর এই সব মেয়েদের জীবনে কাউকে ভালবাসা খুবই কঠিন কাজ , কারন এসব রাগ অভিমান বোঝার ক্ষমতা সব পুরুষের থাকে না ।
যার কারনে তারা খুব সহজে একটা সম্পর্কে যেতে চায়না । কারন তারা টাইম পাস করতে পারেনা তারা অনেক সিরিয়াস থাকে । কিন্তু এমন মেয়েটি যদি আপনার জীবন সঙ্গী হয়ে থাকে তাকে আগলে রাখুন । বিশ্বাস করেন , এই মেয়েটি কখনো আপনাকে ঠকানোর পরিকল্পনা করেনা । এমন মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার । একটা কথা মনে রাখবেন নারী ততদিন আপনার যতদিন সে আপনার উপর রাগ অভিমান করে অধিকার খাটায় । কিন্তু একবার যদি সে মুখ ফিরিয়ে নেয় আপনার কোন সাধ্য নেই তাকে ফিরিয়ে আনার ।
============== 00 ============ 00 ================ 00 ================
পলাশ আমার রুমে লুকিয়ে আছে ১০ দিন যাবত। আমার বাবা-মা কেও জানেনা যে আমি একটা ছেলেকে আমার রুমে লুকিয়ে রেখেছি।
আমার নাম অদ্রি। আর পলাশ হলো আমার ভালোবাসার মানুষ। আমরা একে অপরকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি।
পলাশের পরিবারে একটা সমস্যা হবার কারনে সে আমার রুমে লুকিয়ে থাকে।
আমার আলাদা রুম, আর রুমের মধ্যে টয়লেট থাকার কারনে পলাশের কোনো সমস্যা হচ্ছেনা। আমার রুমেও বাবা-মা কেও বেশি আসেনা।
যখন তারা আসে তখন পলাশ আসবাবের পিছনে লুকিয়ে পড়ে।
এখন রাত ১২টা বাজে। মা আমাকে ভাত দিয়ে গিয়েছে।
একই থালায় আমি আর দুজনে ভাত খাচ্ছি।
পলাশ কেমন জানি দুর্বল হয়ে গিয়েছে আগে থেকে। আগের মত কথা বলেনা, মজা করেনা।
ভাত খাওয়ার পরে আমার রুমের বারান্দায় গিয়ে পলাশ একটা সিগারেট টানতে শুরু করলো।
সে আগে সিগারেট খেতো না। ইদানিং খাওয়া ধরেছে।
আমি পলাশকে বললাম,
- " এইভাবে আর কতদিন লুকিয়ে থাকবে?",
- " আর অল্প কিছুদিন।"
সিগারেট খেয়ে খাটে এসে শুয়ে পড়লো।
ইদানিং পলাশের শরীর অনেক ঠান্ডা। মনে হয় মৃত একজন মানুষ যার শরীরে রক্ত চলাচল হয়না। আর তার চেহারাটাও কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
আমি খাটে এসে পলাশের পাশে বসলাম।
পলাশ আমার একটা স্তনে হাত রাখলো। তারপর খুব গাড়ভাবে আমার ঠোটে চুমো দিলো।
সে আমার পুরো শরীরে উন্মাদ এর মত হাত দিতে লাগলো।
হঠাৎ বাবা এসে দরজায় ডাক দিলো।
পলাশ খাটের নিচে লুকিয়ে পড়লো।
বাবা এসে বললো,
- " ঔষধ খেয়েছিস মা?"
আমি বললাম,
- " তোমরা কেনো এমন করছো বাবা? আমিতো সম্পূর্ন সুস্থ, তাহলে তোমরা আমাকে রোজ রোজ ঔষধ খাওয়াচ্ছ কেনো?"
বাবা বললো,
- " তুই সুস্থ নাইরে, মা। তাড়াতাড়ি ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। আর দরজাটা খোলা রাখ।"
আমি ভয় পেয়ে গেলাম।
দরজা খোলা রাখলে তো তারা পলাশকে দেখে ফেলবে। তখন অনেক বড় সমস্যা তৈরি হবে। তাই আমি বললাম,
- "বাবা আমাকে একা থাকতে দাও। দরজা খোলা রেখে আমি ঘুমাতে পারিনা। প্রাইভেসি বলতে একটা জিনিস আছে। "
-" আচ্ছা মা"
ঔষধ খাওয়ার পর বাবা চলে গেলো। আমি দরজা আটকে দিলাম।
পলাশ খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আসলো।
পলাশ এখন খালি গায়ে। কিন্তু আমার মনে আছে ও খাটের নিচে ঢোকার সময় শার্ট গায়ে ঢুকেছিলো।
এইসব চিন্তা বাদ দিয়ে আমরা একটা খেলায় মত্ত হলাম।
যেটা সেই সৃষ্টিলগ্ন খেকে নর-নারীর মাঝে চলে আসছে।
.
----- পরের দিন -----
.
সকাল সকাল দরজায় মা এসে ডাকাডাকি শুরু করছে।
আমি বিরক্তের সুরে বললাম,
" ২ মিনিট।"
পলাশকে ঘুম থেকে জাগিয়ে লুকিয়ে পড়তে বললাম।
সে লুকিয়ে পড়লো।
দরজা খুলে দেখি লাবিব দাড়িয়ে আছে।
লাবিব আমার বন্ধু, সে আমাকে অনেক পছন্দ করে, জানিনা সে আমাকে ভালোবাসে কিনা।
লাবিব বললো,
-" আসতে পারি?"
আমি বললাম,
-" আসো।"
আমি জলদি করে মুখে পানি মেরে ওর সামনে এসে বসলাম।
বসার আগে রুমের দরজাটা আটকে দিলাম।
লাবিব বললো,
- " তো কি খবর তোমার? কোনো খোজ-খবর পাচ্ছিনা তোমার বিষয়ে!"
- " এইতো আছি কোনোরকম, তুমি?"
- " ভালোই। ঔষধ ঠিক মতো খাচ্ছো?"
- " জ্বি। খাচ্ছি।"
হঠাৎ লাবিবের দৃষ্টি যায় গতকাল পলাশের খাওয়া সিগারেটের ফেলে দেওয়া ফিল্টারের দিকে যা বারান্দায় পড়ে আছে।
লাবিব বললো,
- " তোমাদের ঘরে সিগারেট কে খায়?"
আমি বানিয়ে মিথ্যা কথা বললাম,
- " আমার বাবা মাঝে-মধ্যে খায় আরকি।"
- " ও ভালো। "
আমি লাবিবকে বললাম,
- " আচ্ছা লাবিব তুমি এখন যাও। পড়ে কথা হবে। আমার অনেক কাজ আছে।"
ও আমার রুম থেকে চলে গেলো।
আমি দরজা আটকে দিলাম।
সে আমার রুম থেকে চলে গেলেও আমি তার এবং আমার মায়ের নিচুগলায় কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম ২০ মিনিট ধরে।
তারপর লাবিব চলে গেলো।
তারা নিশ্চয়ই আমার অসুখের বিষয়ে কথা বলেছে।
আমি পলাশকে বললাম,
- " জানু, তুমি ঘরে থাকো আমি তোমার জন্য সিগারেট এবং কিছু খাবার নিয়ে আসছি।"
- " আচ্ছা। তাড়াতাড়ি এসো। আমার একা থাকতে ভয় করে।"
আমি রুম থেকে বের হয়ে রুমে তালা মেরে দিলাম।
মাকে বললাম,
" মা আমি চাইনা তুমি আমার রুমে ঢুকে অযথা আমার রুম অগোছালো করে ফেলো তাই তালা মেরে দিলাম। আর আমার কিছু জিনিস লাগবে তার জন্য আমি দোকানো যাচ্ছি।"
মা আমাকে অনেকবার নিষেধ করার পরও আমি প্রায় জেদ ধরে দোকানে চলে আসলাম একা একা।
যা যা লাগবে তা সকল কিনে ফেললাম।
কেনো জানি আজকাল পলাশ আসার পর থেকে আমার কাছে সবকিছু অন্যরকম লাগে।
মনে হয় আমি অন্য জগতের বাসিন্দা।
.
----- রাত ১১ টা-----
.
পলাশ আর আমি বারান্দায় বসে বসে গল্প করছি।
পলাশের কথাগুলো সব অদ্ভূত অদ্ভূত।
সে নাকি আমাদের দৃষ্টিগোচরের বাইরেও অনেক কিছু দেখতে পায়।
যেমন এখন সে আমাকে একটা গল্প বলছে যেখানে মানুষ অমর থাকে কিন্তু তারা জন্ম নিতে পারেনা তাই তারা মৃত।
তার এইসকল কথাগুলোর কোনো মানে খুজে পাইনা আমি।
পলাশ বললো,
-" আচ্ছা, তুমি আমাকে ভালোবেসে কত কাল থাকতে পারবে?"
-" সারাজীবন।"
-" আচ্ছা আমাদের যদি একলা একটা দ্বিপে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে ১০০ বছর কাটানোর পরও কি আমাদের ভালোবাসা একই থাকবে?"
আমি কিছু বললাম না।
পলাশ আবারো বললো,
-" পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছুই নেই। সবই সাময়িক মোহ। একসাথে থাকতে থাকতে যখন বিপরীত শরীরের প্রতি আর যৌন আকর্ষন আগের মত কাজ করবে না তখন ভালোবাসা বাতাসের মত হাল্কা হয়ে যাবে। তখন থেকে যাবে শুধু সম্পর্কের বন্ধন। যেটা থেকে মৃত্যুই মুক্তি দেয়।"
এইরকম অনেক কথা বলার পর আমি আর পলাশ শুয়ে পড়লাম।
.
----- মাঝরাত -----
.
একটা তরল জাতীয় কিছু আমার মুখে পড়ার কারনে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
চোখ খুলে দেখলাম পলাশ ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে।
তার জিবটা বের হয়ে আছে, চোখগুলো অনেক বড় আকার ধারন করেছে।
তার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। মাথা থেতলে আছে। সেখান থেকে রক্ত পড়ছিলো আমার মুখে।
আমি একটা বিকট চিৎকার দিলাম।
----------------------
অদ্রির চিৎকারের আওয়াজ শুনে তার বাবা-মা তার রুমের দরজা ভেঙ্গে যখন ভিতরে ঢুকলো তখন তারা দেখলো তাদের মেয়ে খাটে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।
পুরো রুমটাই স্বাভাবিক ছিলো।
সেখানে ফাসিতে ঝোলানো রক্তাক্ত লাশতো দূরের কথা কোনো ছেলের চিহ্নমাত্র ছিলোনা।
.
তাহলে কি ছিলো সেখানে??
.
.
#চলবে-----
পরের পর্বটা শেষ পর্ব।
.
Story... দুনিয়া"
পর্বঃ-১
Sazzad...
