অমানুষ - Omanush Part- 02


#আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক একটি কাহিনি হচ্ছে জর্জ স্টিনির মৃত্যুদন্ড....
বিংশ শতাব্দীতে আমেরিকায় সবচেয়ে কম বয়সী একটি ছেলেকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। যার নাম ছিল জর্জ স্টিনি জুনিয়র....
 
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছেলেটিকে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
বিচারের দিন, এমনকি তার মৃত্যুদণ্ডের দিনেও সে হাতে একটি বাইবেল নিয়ে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। ক্ষমতা যার রাজ্য তার এমনটাই ছিল।
সেই সময় দুই শ্রেনীর মানুষ বসবাস করতেন। একটি শ্বেতাঙ্গ, অন্যটি কৃষ্ণাঙ্গ। মূলত যাদের গায়ের চামড়ার রং সাদা তারা শ্বেতাঙ্গ আর যাদের গায়ের রং কালো তারা কৃষ্ণাঙ্গ। ক্ষমতা ছিলো শ্বেতাঙ্গের হাতে।
 
একদিন 'বেটি বিনিকার' আর 'ম্যারি এমা' নামে দুটি শ্বেতাঙ্গ মেয়ে বুনো ফুল কুড়াতে বের হয় নিজেদের সাইকেলে চড়ে। সেদিন তারা আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরেরদিন সকালে শিকারী কুকুরসহ একটা তল্লাশীদল বের হয় তাদের খোঁজে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে কৃষ্ণাঙ্গদের এলাকায় একটা পানি নিষ্কাশনের নালায় দু'জনেরই লাশ পাওয়া যায়।
 
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা যায়, ভারী কোনো ধাতব বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। ধারণা করা হয়, রেললাইনের স্পাইক দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে তাদেরকে। মৃত্যুর সময় বিনিকারের বয়স ছিল ১১ বছর, আর ম্যারির বয়স মাত্র ৮ বছর।
জর্জ স্টিনির বিরুদ্ধে দুই শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করেন।
বিচার মাত্র ২ ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল এবং ১০ মিনিট পরে সাজা ঘোষণা করা হয়।
ছেলেটির বাবা-মাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। যেনো আদালতে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়। এরপর সেই শহর থেকে তাদের ফ্যামিলিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
 
বাসস্থান থেকে সরিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কেন্দ্রের কারাগারে। সেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ৮৮ দিন বন্দী ছিলো জর্জ স্টিনি জুনিয়র। এর মাঝে কেবল একবারই তার পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিল। বাসা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে নির্জনে রাখা হয়েছিল।
তারপর বৈদ্যুতিক চেয়ারের উপর একটি মোটা টেলিফোন বই দিয়ে তার ওপর তাকে বসিয়ে, সেই সাথে চেয়ারের হাতল এবং পায়ার সাথে যথাক্রমে তার হাত এবং পা বেঁধে দেওয়া হয়।
 
বেল্ট দিয়ে মুখ বেঁধে দেওয়ার পর তার চেহারাও ঢেকে দেওয়া হয়। যাতে কেউ তার কান্না দেখতে না পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মাথার সাথে সংযোগ দেওয়া হলো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের। এর কিছুক্ষণ পরই সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে জর্জ স্টিনি জুনিয়রের শরীর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয় ৫,৩৮০ ভোল্টের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। সঙ্গে সঙ্গে ছটফট করতে করতে মৃত্যু হয়।
 
ঘটনার প্রায় ৭০ বছর পর, তার নির্দোষ প্রমান করেন দক্ষিণ ক্যারোলিনার একজন বিচারক।
 
Author: Arman Chowdhury Stories 
======= =  = = =================== ============= ========= ========
#অমানুষ
পর্ব---০২
কাহিনী ও লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ।
---এই রিপোর্ট বলছে আপনি কখনো প্রেগনেন্টই হননি।আমার বলতে খারাপ লাগছে তারপরেও নিজের দ্বায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বলছি আপনি একজন বন্ধ্যা নারী।আপনার গর্ভে বাচ্চা আসতেই পারে না।এটা অসম্ভব।
ডাক্তাদের কথা শুনে বারিষ আর রোদ যেনো আকাশ থেকে পড়লো।হতবাক দৃষ্টিতে একে অপরের তাকাতে লাগলো দুজন!
 
---আপনি কি বলছেন এসব,আমার স্ত্রী বন্ধ্যা নয়।এই বাচ্চাটার জন্ম আমার চোখের সামনে হয়েছে।
---দেখুন,আমি বহুবার টেস্টগুলো করিয়েছি।আমার টেস্ট কখনো ভুল বলে না।
---ডক্টর সাহেব মনে হয় আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।
---না,আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে না,ভুল যদি কোথাও থেকে থাকে সেটা আপনাদের ভাবনায়!
---আমি আপনার কোনো কথা বিশ্বাস করি না,আপনি মিথ্যে বলছেন।
---আহা!রোদ,তুমি প্লিজ এতো উত্তেজিত হয়ো না।চলো আমরা বেরিয়ে যাই।
বারিষ আর রোদ ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাবে ঠিক তখন সে পেছন থেকে বলে উঠলো।
---আপনাদের রিপোর্ট নিয়ে যান।
 
---f u ck your report....আপনার রিপোর্ট আপনি গুজে রাখুন।
---রোদ,হচ্ছেটা কি এসব।নিজেকে কন্ট্রোল করো।এসব কি মুখের ভাষা তোমার,
একটু পরে ওরা দুজন বাইরে বেরিয়ে আসে।ডাক্তারের সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য বারিষ রোদের ওপরে রেগে আছে।রোদের ভালো স্বভাবের ভেতর এই একটাই বাজে স্বভাব আর সেটা হলো ওর নিজের রাগের ওপরে নিয়ন্ত্রন নেই কোনো।এর আগেও বহু মানুষের সাথে ঝামেলা হয়েছে শুধুমাত্র এরকম বাজে স্বভাবের কারণে।রোদ বারিষকে কনভেজ করার চেষ্টা করে‌।
---বারিষ,আমি সরি।দেখো আমি বুঝতে পেরেছি আমার ডাক্তারকে ঐভাবে বলা উচিত হয়নি।
---এখন তোমার বোঝাতে কি আসে যায়,আমাদের ইমেজ যা নষ্ট হবার হয়েছে তো।
---সরি,আর এরকম ভুল হবে না।প্রমিস।
---এই নিয়ে দশ বারো বার!
 
বারিষ রোদের দিকে বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকিয়ে গাড়িতে উঠলো।আদিল কোলে ঘুমিয়ে আছে।রোদ সামনের সিটে বসে ড্রাইভ করতে লাগলো।দুজনেই বেশ চুপচাপ।পথিমধ্যে কারোর সাথে কারোর বাক্যালাপ হয় না।
-
-
-
-
-
এরপর বাড়িতে।আদিলকে দেখানোর জন্য একজন আলেমকে ডাকা হয়েছে।খুব অভিজ্ঞ আলেম।আদিল আর বারিষ অনেক ভরসা করে তাকে ডেকে এনেছে।হয়তো তার কাছে আদিলের সমস্যার কোনো সূরহা থাকতে পারে এই আশায়।
 
আলেম সাহেব ড্রয়িং রুমে বসে আছেন।সামনেই রোদের কোলে ওর ছেলে আদিল।রুমের অন্যপাশে বারিষ আর ওর বোন মানালী।মানালী আর ওর হাসবেন্ড আজকেই এসেছে এই বাড়িতে।ওরা প্রায়ই এই বাড়িতে বেড়াতে আসে।এমনকি বারিষের প্রেগনেন্সির পুরোটা সময় ও এই বাড়িতেই ছিলো।বোনের দেখাশুনা করেছে।
আলেম সাহেব রোদকে বললেন যেন আদিলকে তার কাছে দেওয়া হয়।আদিল সেই অনুযায়ী কাজ করলো।
 
---আলেম সাহেব,কিছু বুঝলেন?
---আচ্ছা এই বাড়িতে কবে উঠেছো তোমরা?
---এইতো এক সপ্তাহ আগে,
---হতে পারে এই বাড়িতেই খারাপ কিছু আছে,যার প্রভাবে....
---কিন্তু এই সমস্যা তো নতুন নয়।আদিল জন্মের পর থেকেই আমরা এটা ফেইস করে আসছি।পুরনো বাসাতেও একই প্রবেলেম ছিলো।
---দেখো বাবা,এইসব অদৃশ্য শক্তিকে চোখে দেখা যায় না।তোমরা দেখতে না পেলে কি হবে,তাদের নজর সবসময় তোমাদের ওপরে থাকে।তোমরা কোথায় যাচ্ছো,কি করছো তারা সব দেখতে পায়!
---তার মানে আপনি বলতে চাইছেন কোনো খারাপ কিছু আদিলের সাথে আছে,আর সেই ওর পিছনে পড়ে আছে।খারাপ কোনো জ্বীন নয় তো,
 
(বারিষের বোন মানালীর প্রশ্ন)
---আমি নিশ্চয়তা দিয়ে এক্ষুণি কিছু বলতে পারবো না।তবে আমার সেরকমই মনে হচ্ছে!
---এখন আমাদের করণীয় কি আলেম সাহেব,আমাদের ছেলে বড়ো হলেও কি এই সমস্যা পিছু ছাড়বে না ওর।
(রোদ)
 
---না ছাড়বে না।সে তো ছেড়ে দেবার জন্য আসেনি‌।তবে আমার খটকা অন্য জায়গায়,কোনো সাধারণ মানুষের বাচ্চার সাথে কেউ এমনটা কেনো করবে।কিসের অশুভ প্রভাব ওর ওপর?দেখো তোমাদের সবাইকে ছেড়ে সে এই দুধের বাচ্চাটার ওপরেই নজর দিয়েছে।কোনো একটা তো ব্যপার আছেই।
---আপনি আমাদের একটা উপায় বলে দিন দয়া করে,আমি আমার সন্তানের দূর্দশা নিজের চোখে দেখতে পারছি না আর।(বারিষ)
আলেমসাহেব তার ব্যাগ থেকে একটা তাবিজ বের করলেন।তারপর সেটা বারিষের হাতে দিলেন।
---এটা নাও।শনি মঙ্গলবার দেখে তোমার ছেলের সাথে বেঁধে দিও।আশা করি কিছুটা হলেও উপকার হবে তোমাদের।
---আজ তো মঙ্গলবার,তাহলে আজকেই বেঁধে দেই।
---হ্যাঁ,তাই করো।
 
---ঠিক আছে।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
---এক্ষুণি ধন্যবাদ জানানোর কিছু হয়নি।আগে দেখো কি হয়।
আলেম সাহেব উঠে চলে গেলেন।রোদ তাকে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিলো।এদিকে বারিষ ওর ছেলে আদিলের গলায় তাবিজটা মাধূলি করে ঝুলিয়ে দিলো।
-
-
-
-
-
এরপর রাতের বেলা।সবাই এশার আযানের জন্য অপেক্ষা করছে এটা দেখার জন্য আলেম সাহেবের তাবিজ কাজে দিলো কিনা!
 
রোদের কোলে আদিল ‌শুয়ে আছে,একটু পরেই পাশের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে।
আজানের ধ্বনি আদিলের কানে পৌঁছানো মাত্র সে চিৎকার জুড়ে দিলো।বাড়ির সবাই এই দৃশ্য দেখে আবারো হতাশ হয়ে পড়ে।তার মানে আলেমের তাবিজ কোনো কাজে আসলো না।আদিলের সাথে কি ঘটছে কেউ বুঝতে পারছে না।আযান শেষ হলে আদিল আবারো কান্না থামিয়ে দিলো।
বারিষ আর রোদ আদিলকে দোলনায় শুইয়ে দিয়ে নিচে ডিনার সারতে গেলো।সবাই ডিনার শেষে যে যার ঘরে চলে যায়।বারিষ রোদকে ডেকে বলে।
---এই শোনো একটু,বাবু ঘরে একা আছে।তুমি তাড়াতাড়ি যাও ওর কাছে।আমি হাতের কাজগুলো শেষ করে আসছি‌।
 
স্ত্রীর কথা শুনে রোদ নিজেদের ঘরে চলে গেলো।বারিষ একটু পরেই রোদের চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায়।দৌড়ে সে উপরের ঘরের দিকে গেলো।সাথে ওর বোন জামাইরাও।ঘরের ভেতরে ঢুকে সবাই যেনো আকাশ থেকে পড়লো।একি ভয়ানক দৃশ্য দেখছে সবাই!
আদিল সিলিং ফ্যানের ওপরে শুয়ে আছে।রোদ খুব সাবধানে নিজের বাচ্চাকে নামাতে লাগলো।কিন্তু এরকম ছোটো একটা শিশু এতো উপরে উঠলো কিকরে,এই চিন্তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে....
চলবে.....

Next Post Previous Post