বিন্দিয়ার বিয়ে #Bindia's Marriage | Episode 01
Alamgir
29 May, 2018
#বিন্দিয়ার বিয়ে
#লেখক আরিফ ইসলাম
Episode 01
চারিদিকে যখন বিয়ের সানাই বাজছে, তখন সেই বিয়ের কনে বিন্দায়াকেই ধ*র্ষণ করছে এলাকার প্রভাবশালী মতিন মিয়া।
বিন্দায়ার চিৎকার সানাইয়ের সুরে আটকা পড়ে যাচ্ছে বার বার। ভাঙ্গা ঘরটার দিকে কেউ তাকাচ্ছেও না, যেখানে বিন্দায়ার ইজ্জত হরণ করা হচ্ছে।
মতিন মিয়ার অনেক দিনের ইচ্ছে বিন্দিয়া কে বিয়ে করবে। কিন্তু বিন্দিয়া তো ভালোবাসে মোহন কে। তাই এর বদলা নিচ্ছে মতিন মিয়া।
মতিনয়ের খায়েস মিটিয়ে গেলে বিন্দিয়া কে ছেড়ে উঠে পরে। বিন্দিয়ার শরীরের শেষ কাপড় টুকু দিয়ে তার শরীর ঢাকার বৃথা চেষ্টা করে।
বিন্দায়ার করুনাময় চোখ আর আর্তনাদ ভরা কন্ঠ কাবু করতে পারলো না মতিন কে। যখন তার সব শেষ তখন ভাঙ্গা জানালার ফাঁক দিয়ে শুনতে পেলো__ বর এসেছে! বর এসেছে!
কিন্তু তার তো সব শেষ, ভালোবাসার মানুষ কে ঠকাবে কেমন করে ।
মতিন তরিঘরি ভাঙ্গা ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
বিন্দিয়া অনেক কষ্টে উঠে ভাঙ্গা টিনের ফুটো দিয়ে তার ভালোবাসার মানুষটিকে একটি বার মন ভরে দেখে নেয়। এটাই যে তার শেষ দেখা , আর হয়তো ঐ মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে দেখা হবে না তার ।
সবাই যখন বর যাত্রীদের আপ্যায়নে ব্যাস্ত , তখন বিন্দিয়া ভাঙ্গা ঘরের আড়ায় ওরনা জড়াতে ব্যাস্ত ।
বিন্দিয়া চেয়েছিলো তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে সাড়া জিবন থাকতে। কিন্তু সেটা আর হলো না। পৃথিবীকে শেষ বারের মত দেখে ফাঁস গলায় আটকে ঝুলিয়ে পরলো বিন্দিয়া।
এতক্ষণে কনের কোনো খবর নেই। চারিদিকে হইচই পড়ে যায়, নিরব হয়ে যায় সানাইয়ের সুর। এই সুরটা আগে বন্ধ হওয়া উচিত ছিলো ।
মিয়া বাড়ির বিয়ে বলে কথা, সারা এলাকার মানুষ দাওয়াত পেয়েছে। তাই লোকের সমাগম কম নয়।
মিয়া সাহেবের নাতনি ফাতিমা হঠাৎ করেই ভাঙ্গা ঘরটিতে ঢুকে। বিন্দিয়া কে আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে দৌড়ে তার মায়ের কাছে গিয়ে বলে __ ও মা , ফুফুতো ঐ ভাঙ্গা ঘরে ঝুলোনী ঝুলোনী খেলতাছে ।
ছোট মেয়ে বুঝবে কেমন করে যে তার ফুফু তো মারা গেছে। সবাই ছুটে ভাঙ্গা ঘরে এসে বিন্দিয়ার ঝুলন্ত লাশ পায় ।
বিন্দায়ার মা সুরাহ খাতুন তো বাচে আর মরে । মিয়া সাহেবের তো কয়েক ঘন্টা হুঁশ ছিলোই না। পুরো বাড়িটা যেনো এক মূহুর্তে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পরে।
বিন্দায়ার প্রেমিক মোহন মিয়া একনজর বিন্দায়া কে দেখে ফিরে যায় তার বাড়িতে।
__আত্মহত্যা করা মাইয়ারে আমাগো গোরস্থানে কবর দিতে দিমু না। ( উচ্চস্বরে একজন প্রবীন ব্যাক্তি বলে উঠলেন।
__হো হো কাসেম চাচায় ঠিকি কইছে, এই পাপী মাইয়ারে আমাগো গোরস্থানে দাফন কইরা আমরা সহ পাপী হইতে পারুম না। (সমস্বরে কয়েকজন বুড়ো কাসেম মুন্সির কথায় সহমত প্রকাশ করে।
মিয়া সাহেব উপায় না পাইয়া নিজ ভিটাতেই মেয়ের লাশ দাফন করেন। বিয়ে বাড়িতে এত লোকজন থাকা সত্ত্বেও, জানাযায় লোকের দেখা মিলে নি সেদিন।
সবার মুখে একটাই কথা , পাপী মাইয়ার জানাযায় শরীক হয়ে কী নিজেরা পাপী হমু।
অনেক দিন পার হয়ে যায়। বিন্দিয়ার কথা তো সবাই ভুলেই গেছে।
___ এই মালা বিকালে পুকুরঘাটে আহিস কথা আছে।
মালা আরিফের কথা শুনে মুখ ভেঙচিয়ে চলে যায়।
আরিফ আর মালা একসাথে একই স্কুলে পরে ।
আরিফের বয়স ৮ আর মালার বয়স ৭ ।
বিকালে আরিফ পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে রইলো ।
___ মালায় আইবো কী ? কহন ধইরা দাড়ায় আছি, আহোনের নাম নাই । ( আরিফ মনে মনে বিরবির করছে)
হঠাৎ আরিফের দিকে কেউ একজন ঢিল ছুড়ে মারে।
___ এই কেডা রে ঢিল মারতাছোস। সাহস থাকলে সামনে আয়। ( আরিফ রাগী কন্ঠে বলে উঠে)
____ কী করবি সামনে আইলে? আইলাম সামনে কী করবি কর । ( বলতে বলতে আড়াল থেকে উঠে আসতে লাগলো মালা )
___ তাইলে তুই! আমি ভাবছি তুই আইবি না। আইছোস ভালা করছোস, চল ঐ মিয়া বাড়ির ভিটায় যামু বরই পারতে। ( আরিফ বলতে লাগলো)
মালা ___ আমি যামু না ঐ মিয়া বাড়ির ভিটায়। আব্বায় কইছে ঐহানে ভুত থাকে।
আরিফ ___ দুর ছেমরি, তুই ভুতে বিশ্বাস করোস। আরে চল ভুত আমারে দেইখা ডরায়। আমি থাকতে তোর কিচ্ছু অইবো না।
আরিফের কথায় সাহস পেয়ে মালা মিয়া বাড়ির ভিটায় যেতে রাজি হয়ে যায়। এটাই সেই ভিটা , যেখানে বিন্দিয়া কে কবর দিয়েছে। কবর বললে ভুল হবে, একপ্রকার মাটি চাপা দিয়ে রেখে দিয়েছে।
অবশেষে তারা মিয়া বাড়ির ভিটায় পৌঁছে যায়।
আরিফ ___ তুই নিচে থাকবি আর আমি গাছে উইঠা বরই পারমু।
মালা__ আইচ্ছা, সাবধানে উঠিস কইলাম ।
আরিফ গাছে উঠে পরে । শীতের বিকালে চারিদিকে কুয়াশা আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
আরিফ গাছে উঠে পরার পর কুয়াশা যেনো আরো বারতে থাকে। একপর্যায়ে গাছের নিচে কুয়াশার জন্য কিছু দেখা যায় না। হঠাৎ মালা চিৎকার দিয়ে উঠল।
আরিফ তরিঘরি নিচে নেমে দেখে মালা গাছের নিচে নাই। আরিফ ভাবে হয়তো মালা লুকুচুরি খেলছে। কারন প্রায়ই আরিফের সাথে এমন মজা করে সে ।
আরিফ ___ দেখ মালা মজা করিস না, এমনিতেই সন্ধ্যা হইয়া আইতেছে। ঘরে ফিরা লাগবো, তুই কোথায় লুকাইছিস।
আরিফ মালার নাম ধরে ডাকতে থাকে । কিন্তু কোথাও মালার কোনো সাড়া শব্দ নেই।
আরিফ ___ তুই লুকাইছিস তো, আইচ্ছা থাক আমি গেলাম। ভুতেরা আইসা তোর ঘার মটকাইবো নে।
এই বলে আরিফ বাড়ির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু তখনও মালার কোনো সাড়া নেই। আরিফ ভাবে হয়তো বাড়িতে চলে গেছে মালা। তাই সে বাড়িতে ফিরে আসে।
সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মালার বাপ খোকন মিয়া আরিফ দের বাড়িতে আসে মালার খোঁজে। আরিফ তখন কুপির আলোয় পরতেছিলো । সেই সময়টাতে বিদ্যুৎ বড়লোকের শহরের জন্য ছিলো। গায় গেরামে পৌঁছায় নি তখনও বিদ্যুৎ।
হারিকেনের আলোয় খোকন মিয়া আরিফের বাপ মালেক মিয়ারে ডাকে।
খোকন মিয়া__ ভাইয়ে আমগো মালা আরিফের লগে বিকালে খেলতে বাইর হইয়া আর বাড়িতে ফিরে নাই । আরিফরে জিগাও তো মালা কই ?
আরিফ দৌড়ে এসে খোকন মিয়া ও মালেক মিয়াকে সব খুলে বলে।
আরিফ ___ আমি ভাবছিলাম মালা বাইত্তে আইয়া পরছে। তাই আমি ঐহান থাইকা চইলা আইছি।
খোকন মিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।
খোকন মিয়া ___ আল্লাহ গো আমার মাইয়াডারে মনে হয় ভুতে পায়ছে।
মালেক মিয়া , খোকন মিয়া আর আরিফ রে সহ গেরামের কয়েকজন মিলে মিয়া বাড়ির ভিটায় যায় । সবার হাতে হারিকেন জ্বালানো।
মালা কে অনেক ডাকাডাকির পরেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে খোকন মিয়া হতাশ হয়ে যায়। হঠাৎ আরিফের চিৎকারে সবাই সেইদিকে ছুটে যায়।
দেখে মালা বরই গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে আছে।
খোকন মিয়া তরিঘরি গাছে উঠে মালাকে নামিয়ে আনে।
সকাল হতেই হুজুর ডেকে মালাকে ঝাড়ফুক দেয়। কিছুদিন পাগলামো করে শেষে স্বাভাবিক হয় মালা। তারপর থেকে সেই মিয়া বাড়ির ভিটায় কেউ যেতে সাহস পায়নি ।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় আরিফের সাথে। সে প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকে, এবং সবসময় মিয়া বাড়ির ভিটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ।
মালেক মিয়া আরিফকে অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও সুস্থ করতে পারেনি।
হঠাৎ একদিন একটা হুজুর এসে মালেক মিয়াকে বলে
___ মালেক মিয়া আরিফ রে এই গেরাম থাইকা দূরে সরাই দেন। তাতে যদি একটু ও ভালো থাকে।
সেদিন রাতেই আরিফ কে তার ফুফুর বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন মালেক মিয়া।
এখনো প্রায় রাতে অচেনা কারো ডাকে হঠাৎ আরিফের ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তু উঠে সে কাউকে পায়না।
আরিফ অনেক বড় হয়ে গেছে, কলেজে উঠেছে সে।
সকাল সকাল ডাক পিয়নের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায় আরিফের, চিঠি এসেছে তার।
বাড়ি থেকে চিঠি পাঠিয়েছেন মালেক মিয়া। আরিফের কাকার মেয়ের বিয়ে। আসতে বলেছে তাকে।
আরিফ ___ ময়না আপার বিয়া!! ইশ কত ইচ্ছা ছিলো বিয়েতে আনন্দ করবো। ( আবেক প্রবন হয়ে)
দুপুর বেলায় বেরিয়ে পরে আরিফ তার নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে। ফুফুর বাড়ীর চার গ্রাম পরেই তাদের গ্রাম ।
বিয়ে বাড়ি বলে কথা , অনেক হইচই পূর্ণ ছিলো বাড়িটা। আরিফ যেতেই ওর মা বুকে জড়িয়ে নেয়। বিয়ের আগেরদিন রাতে আরিফ ছাদে বসে আছে। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ তার চোখ ধরে ফেলে।
আরিফ ___ কে ?
___ মাইনষে এত তাড়াতাড়ি ভুইলা গেছে আমারে।
( মালা বলে উঠে)
আরিফ ___ মালা তুই!!
মালা ___ হো আমি! কী খবর তোর । আমগোর তো খবর নিসনা।
আরিফের চোখ খুলে দিয়ে পাশে বসে মালা।
আরিফ মালার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় । মালা এতবড় হয়ে গেছে! আর এত সুন্দরী কেমনে হলো ?
অনেকক্ষন দুজনে গল্প করতে করতে ছাদ থেকে নিচে নামছিলো । হঠাৎ কারো আর্তচিৎকারে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে,, আরিফের চাচাতো বোন ময়না ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছে।
আরিফ আর মালা ছাদের উপর দেখে , তাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটার গায়ে সাদা রঙের শাড়ি জড়ানো।
আরিফ কিছু বলতে যাবার আগেই অদ্ভুত মেয়েটা হঠাৎ মালার ঠিক কাছে চলে আসে।
আরিফ মালার হাত ধরে টানতে টানতে নিচে নামতে চেষ্টা করে। কিন্তু মালাকে সে একচুলও নড়াতে পারলো না।
আরিফ মালার দিকে তাকাতেই দেখে সে মালার নয়, সেই অদ্ভুত মেয়েটার হাত ধরে আছে।
তাহলে মালা কোথায় গেলো??
আরিফ ভয়ে দু পা পিছিয়ে যায়।
মেয়েটা আরিফের দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর ভাবে হাসছে আর বলছে ___
___ আমার লগে যারা খারাপ করছে , তাগো আমি সুখী থাকতে দিমু না।
যেই গেরামে বিন্দিয়ার বিয়া হয়নাই, সেই গেরামে কোনো মাইয়ার বিয়া হইতে দিমু না ___
চলবে -----------------
নতুন গল্প সাড়া দিয়েন 

