সূরা ইয়াসিন ( سورة يس‎) - অত্যন্ত দরদী তেলাওয়াত । By Zain Abu Kautsar | কোন স্ত্রী তাঁর স্বামীর চাকরাণী নয় বরং রাণী

#islamik_post
 
••• স্বামী/ শ্বশুর / শ্বাশুড়ির সেবা •••
*** কোন স্ত্রী তাঁর স্বামীর চাকরাণী নয় । স্বামীর কাপড় ধোয়ার জন্য স্ত্রী বাধ্য নন । বরং স্বামী/ স্ত্রীর মধ্যকার আন্তরিকতার টানে স্ত্রী তাঁর স্বামীর সেবা করে থাকেন মাত্র । স্বামীর খেদমত করা স্বামীর প্রতি ইহসান ও অনুগ্রহ স্বরুপ । 
 
*** স্ত্রী যদি সম্পদশালীও হয়ে থাকে, তবুও তাঁর যাবতীয় খরচ স্বামীর উপর বর্তায় এবং স্বামী তা’ বহন করতে বাধ্য । 
 
*** মহানবী সাঃ বলেছেন “ স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো । তাঁরা তোমাদের কাছে আমানত । তাঁদের লজ্জাস্থান তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে ।”
ছহীহ মুসলিম ২১৩৭
 
*** মহানবী সাঃ বলেন “ তোমাদের মধ্যে সে সর্বাপেক্ষা উত্তম যে স্বামী তাঁর স্ত্রীর কাছে উত্তম ।”
সুনানে তিরমিযি ৩৮৩০
সুনানে ইব্নে মাজাহ ১৯৬৭
শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহঃ হাদিসটিকে ছহীহ বলেছেন ।
*** শ্বশুরের সামনে পুত্রবধুকে যাওয়া - আসা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে ।
সূরা নূর ৩১
 
*** শ্বশুর যদি চোখ লম্বা টাইপের হয়ে থাকে, সুযোগ পেলে পুত্রবধুকে ধর্ষণ করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়ে থাকে, বিশেষ করে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে , এমতাবস্থায় ঐ শ্বশুরের সামনে যাওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ।
*** হাদিসে বলা হয়েছে স্বামীর আত্মীয়- স্বজনদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার জন্য । উত্তম ব্যবহার অর্থ শ্বশুর / শ্বাশুড়ির সেবা করা নয় । 
 
*** সৌদিয়ার সর্বোচ্চ ফতওয়া বোর্ড اللجنة الدائمة ‘র ফতওয়া হলো “ কোন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে স্বামীর মা- বাবা’র সেবা করার আদেশ করতে পারবেনা । কারণ এটা শরিয়ত পরিপন্হী । শরিয়ত বিরোধী কোন আদেশ করার স্বামীর অধিকার নেই । কোন স্ত্রী তাঁর স্বামী কিংবা আর কারো চাকরাণী নয় ।”
রেফারেন্সঃ
لقاءات الباب المفتوح ١٤/٦٨
ফতওয়া দিয়েছেন শায়খ বিন বায রহঃ । শায়খ সালেহ উসাইমিন রহঃ । শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফীফী ।
الشيخ عبدالله بن غديان
الشيخ عبدالله بن قعود
فتاوي اللجنة الدائمة ٢٦٥-٢٦٤/٩
*** শরিয়তে যেখানে একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাপড় ধোয়ার জন্য বাধ্য নন, সেখানে শ্বশুর/ শ্বাশুড়ির খেদমত তো অনেক দূরের কথা । 
 
*** শ্বশুর / শ্বাশুড়ি বৃদ্ধ- বৃদ্ধা হয়ে থাকলে , তাঁদেরকে রান্না করে খাওয়ানো ইহসান স্বরুপ পুত্রবধু করতে পারে । কিন্তু দায়িত্ব হিসেবে নয় । বরং এই দায়িত্বটি স্বামীর উপর । সুতরাং কোন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে নিজের মা- বাবা’র সেবা করার জন্য বাধ্য করতে পারেনা এবং কখনো না । যদি এমনটি করে, সে স্বামী জালিমের আওতায় পড়বে । 
 
*** একজন পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর/ শ্বাশুড়ির সেবা নিজের খুশি অনুযায়ী যতোটুকু করে , তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে । কোন পুত্রবধু তাঁর শ্বশুর / শ্বাশুড়ির সেবা না করলে গুনাহগার হবেনা ।
*** সাবধান ! শ্বশুর সাহেবের কাপড় চোপর ধোয়ার কাজ যেনো পুত্রবধুরা না করে । শ্বশুরের হাত/ পা টিপানো কোন পুত্রবধুর জন্য জায়েজ নেই । সাবধান এবং সাবধান । 
 
*** আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আপনার স্ত্রী আপনার চাকরাণী নয় । সুতরাং তাঁর সাথে চাকরাণীর ন্যায় ব্যবহার করবেন না । নচেৎ অবশ্যই গুনাহগার হবেন এবং পরকালে জবাবদিহীতা অনিবার্য ।
*** স্ত্রীকে সম্মান করুন । তাঁর সংগে ভদ্রভাবে কথা বলুন । একটি সংসারে আপনার যতোটুকু অধিকার , তাঁরও ততোটুকু অধিকার । একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন ।

Next Post Previous Post