অমানুষ পর্ব- ০১ কাহিনী ও নির্মাণ : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ। Amanush Parv-01 Story and Production: Pradeep Chandra Tiyash.

 বারিষের দেড় মাসের বাচ্চাটা আযান শুনলেই কেঁদে ওঠে।শুধু কান্না নয়,রীতিমত ঘাবড়ে যায় সে,একটা দেড় মাসের বাচ্চার চেহারার ভেতরে ভয় আর আতংকের ছাপ খুব বাজেভাবে ফুটে ওঠে এই সময়ে।বাড়ির সবার এই চিন্তায় ঘুম উধাও।কি এমন কারণ হতে পারে।আর কোনো সময়ে নয়,শুধু আযান দিলেই বাচ্চাটার এভাবে ভয় পেয়ে ক্রন্দন করার রহস্যটা কি।
এখন সন্ধ্যা ৬.৪০!
 
একটু পরেই মাগরীবের আযান দিবে।বাড়ির সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে বারিষের সন্তান আদিলকে লুকানোর জন্য।
 
----বারিষ,রেডি তো?একটু পরেই মাগরিবের আজান দিবে।হুজুর সাহেব আমাদের যে কাজটা করতে বলেছিলেন আজ সেটা অ্যাপ্লাই করে দেখতে হবে।
(বারিষের হাসবেন্ড রোদ্দুর হাসান ওরফে রোদ তাকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললো।)
---আর কতোকিছু অ্যাপ্লাই করতে হবে বলো,আমি হাফিয়ে গেছি।আর পারছি না।
 
বারিষ বাচ্চাটা রোদের হাতে দিলো।রোদ দৌড়ে ওদের বাড়ির বন্ধ স্টোরের রুমের ভেতরে গেলো।তারপর দরজাটা বন্ধ করে দেয়।আযান দেবে ঠিক সেই মূহুর্তে হুজুরের কথামতো বাচ্চাটার দুকানে তুলো গুজে দেয়া হলো।একটু পরেই আযান দেয়।কিন্তু এবার আর বাচ্চাটা কান্না করলো না।এই দৃশ্য দেখে রোদের আনন্দ যেনো ধরছে না।আযান শেষ হতেই ছুটে বাইরে চলে এলো।
---বারিষ কোথায় তুমি,তোমরা সবাই কোথায় দেখে যাও।আদিল কান্না করছে না।দেখলো তো হুজুরের পরামর্শ ঠিক কাজে লাগলো।আমি বলেছিলাম তোমাদের।
রোদের কথা শুনে বারিষ কান্না শুরু দিলো।
---এটা কোনো সমাধান হতে পারে না,আমার বাচ্চাটার আযানে এতো ভীতি কেনো এটা না জানা পর্যন্ত আমি কিচ্ছু ভাবতে পারছি না।
 
---সে ঠিক আছে বারিষ,কিন্তু দেখো এই সমস্যা থেকে বাঁচার আপাতত একটা উপায় তো পাওয়া গিয়েছে,আমাদের বাবু এখন আর ভয়ে কুকড়ে থাকবে না।
---কিন্তু এইভাবে আর কতোদিন,এই ভয়ঙ্কর একটা যন্ত্রনার হাত থেকে কিকরে আর কতোদিন পালিয়ে বাঁচবো,নিজেদের সন্তানকেই বা বাঁচাবো।
 
---এতো ভেবো না,আমরা কোনো একটা ঠিক খুঁজে বের করবো।
---চুপ করো তুমি,মুখে শুধু বড়ো বড়ো কথা।কি করতে পেরেছো এতোদিনে?
---আমি তো চেষ্টা করছি।দেখো খুব শীঘ্রই কোনো একটা উপায় বের হবে।
তুমি মিলিয়ে নিও আমার কথা।
 
মায়ের মন কি আর প্রবোধবাক্যে শান্ত হয়।নিজের ছেলেকে সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক না দেখা পর্যন্ত ওর শান্তি নেই।বারিষ আর রোদের বিবাহিত জীবন খুব বেশী নয়,মাত্র দেড় বছর।আদিলই ওদের একমাত্র আর প্রথম সন্তান।জন্মের পর থেকেই আদিলের ভেতরে আযান নিয়ে সমস্যাটা ছিলো,কিন্তু তখন ব্যপারটা কেউ ঐভাবে আমলে নেয় নি।আদিলের বয়স যতো বাড়তে থাকে ওর এই অস্বাভাবিকতা সবার সামনে প্রকাশ পেতে থাকে।আদিল অন্যান্য সময়ে খুব একটা কাঁদে না,আযানেই যতো বিপত্তি।
 
ব্যপারটা শুধু অদ্ভুদ নয়,অশুভও বটে।প্রতিটি বাচ্চা ফুলের মতো পবিত্র হয়ে থাকে,কিন্তু আদিলের ভেতরে কি এমন অবিত্রতা বা কলুষ লুকিয়ে আছে যে ও আযান ভয় পায়।ইতিমধ্যে আদিলের পরিবার অনেক হুজুর,আলেম,ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়েছে।কিন্তু কোনোপ্রকার সূরহা মেলে নি।এমনকি বাসাও পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে ওরা‌।গত সপ্তাহেই নতুন বাসায় উঠেছে,কিন্তু সমস্যা পিছু ছাড়েনি ওদের।এখানকার একটা হাসপাতালে বারিষের কিছু মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে।আগামীকাল রিপোর্ট আউট হবার কথা।আদিলের জন্য এদিকে একটা সাময়িক সমাধান পেয়ে পরিবারের সবাই কিছুটা হলেও খুশি,শুধুমাত্র বারিষ বাদে।
-
পরেরদিন আদিলকে সাথে নিয়ে বারিষ আর রোদ হাসপাতালে গেলো।বারিষের রিপোর্ট অনেক আগেই বেরিয়ে গিয়েছে।ডাক্তার সাহেব এতোক্ষণ ওদেরই অপেক্ষা করছিলেন।
---সরি ডাক্তার সাহেব আমাদের মনে হয় একটু দেরী হয়ে গেলো?
---ব্যপার না,একটু দেরী হতেই পারে।
 
---আমার ওয়াইফের রিপোর্ট আউট হবার কথা ছিলো আজ?
---জ্বী,আমি আপনাদের জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম।
---কি হয়েছে ডাক্তার বলুন তো,
 
---আপনার স্ত্রী কি সত্যিই প্রেগনেন্ট হয়েছিলেন?
(চমশার ফাঁক দিয়ে উকি মেরে ডাক্তারের প্রশ্ন)
---কি বলছেন আপনি ডাক্তার,এই দেখুন আমাদের বাচ্চা‌।আমাদের বিয়ের কয়েকমাস পরেই আমার স্ত্রী প্রেগনেন্ট হয়।এমনকি ওর ডেলিভারি এই শহরের একটা হাসপাতালেই হয়েছে।আপনি এখন এসব প্রশ্ন কেনো করছেন বলুন তো?
 
---দরকার আছে তাই করছি,আমার কোথাও একটা গন্ডগোল মনে হচ্ছে...
---গন্ডগোল?কিসের গন্ডগোল,আর রিপোর্টে কি এসেছে বলুন,
---হ্যাঁ রিপোর্ট,রিপোর্ট তো অন্য কথা বলছে।
 
--কি হয়েছে ডাক্তার আমাকে বলুন,আর দেখুন এই যে আমার ছেলে আদিল।দেড় মাস বয়স ওর।আমার নিজের চোখের সামনে ওর জন্ম হয়েছে।
(বারিষ ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে বললো)
 
---এই রিপোর্ট বলছে আপনি কখনো প্রেগনেন্টই হননি।আমার বলতে খারাপ লাগছে তারপরেও নিজের দ্বায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বলছি আপনি একজন বন্ধ্যা নারী।আপনার গর্ভে বাচ্চা আসতেই পারে না।এটা অসম্ভব।
 
ডাক্তাদের কথা শুনে বারিষ আর রোদ যেনো আকাশ থেকে পড়লো।হতবাক দৃষ্টিতে একে অপরের তাকাতে লাগলো দুজন!
চলবে --------------------------

(প্রথম পর্ব তাই যথারীতি ছোটো করে দিলাম,পরবর্তী পার্টগুলো অবশ্যই বড়ো করে লিখবো)
 
 
============ =================== =  ==  ===================
অদ্ভুত এক সমাজ আমাদের।
স্বামীর হাতে মার খাবেন শ্বশুড় শ্বাশুড়ি এসে বলবে তুমি কেমন মেয়ে ! 
 
জানোই তো ওর মাথা গরম, রাগের সময় তর্ক করো কেনো ?
 
নিজের বাবা মা বলবেন-একটু মানিয়ে চল,
স্বামী মারুক কাটুক ওটাই তোর ঘর।
স্বামীর মারকে মার বলেনা শাসন বলে।
পাড়া প্রতিবেশীরা এসে মিন মিনিয়ে বলবে,
মহিলার নিশ্চয় কোন সমস্যা আছে
নইলে কেউ এত মার খায় নাকি!
 
আসেন প্রেমের কথা বলি। যখন প্রেম করেছিলেন তখন
সে ছিল স্বর্গের অপ্সরী। ব্রেক আপ করেছেন ?
আরে এই মেয়েতো একটা প্রস্টেটিউট!
না জানি আমার আগের কত ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল!
ব্রেকাপের পর আপনি হয়ে যাবেন সচেতন
আর মেয়েটা সেকেন্ড হ্যান্ড!
বউকে যখন মেজাজ দেখাবেন
তখন আপনি পুরুষ সিংহ আর যখন নরম গলায় ডাকবেন
তখন আঁচল ধরা বিড়াল!
 
বিয়ে দেওয়ালে ঘটক আর পুরোহিতের লাভ,
ডিভোর্স করালে উকিলের লাভ।
আপনার লাভটা কি সমাজ ঠিক করে দেবে ?
সংসারটা আপনার। বৌ টাও আপনার ।
যে মেয়েটাকে বৌ করে ঘরে তুলে এনেছেন তার দিকে তাকান ,
আপনি বাজার করলে সে খায়। 
 
আপনার বাবাকে বাবা বলে মাকে মা বলে।
বিপদে আপদে আপনার পাশে কেউ থাকুক বা না থাকুক
আজীবন পাশে পাবেন আপনার সেই বউকেই ।
তাই সেই বউ টাকে ভালো রাখার দায়িত্ব আপনার।।।
সো নিজের সংসারে তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে জায়গা দিবেন না!

Next Post Previous Post