তাবিজ ৪র্থ পর্ব | Tabeej Part 04 | Amulet 4th Part | Gtv Live Part -04

 


তাবিজ ৪র্থ পর্ব....
Misk Al Maruf...
.
সালমা কি আসলেই তাবিজের সাহায্যে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে নাকি এর পিছনে আরো বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? নাকি সত্যিই বড় ভাই মিরাজ স্বর্ণ চুরি হয়ে যাওয়ার দরুন আত্মহত্যা করেছে?
এতসব চিন্তা ভাবনার মাঝে হঠাৎই মিরা তাঁর স্বামী মুনিমের কাছাকাছি এসে কানে কানে বলে উঠলো,
-শোনো, তোমার সাথে বড় ভাইয়ার মৃত্যুর ব্যপারে কিছু বলার আছে। একটু আমাদের রুমে এসো।
মুনিম তাঁর স্ত্রীর চোখেমুখে বেশ উৎকন্ঠা দেখে বুঝতে পারলো বিষয়টা বোধহয় খুবই সিরিয়াস। কিন্তু এই অবস্থায় তাঁর বড় ভাবীকে ছেড়ে অন্য রুমে নিজ স্ত্রীর সাথে কথোপকথন করতে সে তেমন ইচ্ছা প্রকাশ করলো না। তাই কিছুটা স্বাভাবিক স্বরে বললো,
-যা বলবে রাতে বলো, এখন না।
 
মিরারও পরবর্তীতে মনে হলো এতো তাড়াহুড়ো করে কথাটি না বলে রাতে বরং নিরিবিলি হয়ে বলাটাই খুব ভালো হবে তাই সেও আর তাঁর স্বামীকে এই নিয়ে জেরা করলোনা।
.
মুনিম ও মেহেদি ইতোমধ্যে নিজের ভাইয়ের লাশ নিয়ে আসার জন্য ঢাকাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিদায় বেলায় তাঁদের বড় ভাবী সুমি অনেকটা কাঁদতে কাঁদতেই তাঁদেরকে বললো,
-বিশ্বাস করো! তোমার ভাই কোনোদিনই আত্মহত্যা করেনি বরং তাকে তাঁর শত্রুরা মেরে ফেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে। আমাকেও তোমাদের সাথে নিয়ে চলো আমি জানি তোমার ভাই আত্মহত্যা করেনি।
 
এই বলেই সুমি কান্নায় ভেঙ্গে পরলো। মিরা আর রাইসা এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁরা খুব ভালো করেই জানে স্বামীর শোক এতোটা তাড়াতাড়ি কোনো স্ত্রীই কাঁটিয়ে উঠতে পারেনা তারমধ্যে সেটা যদি এমন রহস্যজনক আত্মহত্যা হয় তাহলেতো কোনো কথাই নেই।
মেহেদি সুমিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললো,
 
-দেখেন ভাবী! এটা এমনিতেই এক অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পুলিশি ঝামেলাতো রয়েই গেছে তাই এতোকিছুর মধ্যে আপনার আমাদের সাথে যাওয়াটা একদমই শোভা পাবেনা। আর তাছাড়া পুলিশ যখন পোস্ট মর্টেম করবে তখন এমনিতেই বেড়িয়ে আসবে এটা আত্মহত্যা নাকি খুন? আপনি একদম চিন্তা করবেন না, আমরা যেহেতু দুই ভাই আছি তাই ভাইয়াকে যদি কেউ খুন করে থাকে তবে অবশ্যই পুলিশের সাহায্য নিয়ে আমরা আসল খুনিকে বের করবো।
 
মেহেদির কথা শুনে সুমি কিছুটা শান্ত হলেও তাঁর স্বামী হারানোর বেদনা যেন একটুও কমেনি। এদিকে সেদিন মুনিম ও মেহেদি দুই ভাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়াতে মিরা তাঁর মনের কথাটি স্বামীকে শেয়ার করার একদমই সুযোগ পেল না।
.
দুই ভাই বসে আছে থানার ওসির মুখোমুখি। ওসি সাহেব যখন তাঁদের মুখ থেকে সমস্ত ঘটনার ধারা বর্ণনা শুনলেন তখন তিনি খানিকটা হাঁফ ছেড়ে বললেন,
 
-হুম শুনলাম আপনাদের কথা, কিন্তু এটা যে খুন সেটা পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে কিছু বলতে পারছি না। তবে এটাও সত্যি যে একটি লোক যদি একহাজার টাকা হারিয়ে যাওয়ার ফলে আত্মহত্যা করতে পারে তবে সেখানে আপনার ভাইয়ের এতোগুলো স্বর্ণ চুরি হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করাটা তেমন কোনো বিষয় নয়। তবুও দেখা যাক পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কি বলে?
 
ওসি সাহেবের কথা শুনে দুই ভাইয়ের কিছুতেই মন ভরছে না। যখন তাঁরা দুজন বড় ভাই মিরাজের ব্যবসায়িক কর্মস্থলে ফিরে আসে তখন সেখানের পরিস্থিতি মুহূর্তেই তাঁদের দুজনকে অসহায় করে তোলে।
 
কিছুক্ষণ পরপরই দোকানে বিভিন্ন লোক এসে বলতে থাকে,
-আপনার ভাইয়ের কাছে আমি এত এত টাকা পেতাম।
সেসব লোকদের পাশাপাশি দোকানের অবশিষ্ট কর্মচারীগণও দাবি করতে থাকে যে,
-আপনার ভাইয়ের কাছে আমার তিনমাসের কিংবা দুইমাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
একটা সময় তাঁদের সকলকে দলিল দেখাতে বলা হলে একেক জন একেক রকম দলিল দেখায়।
ছোটবেলা থেকেই মিরাজ ও মুনিম কাপড়ের ব্যবসা করে আসার কারণে তাঁদের একদমই এই স্বর্ণ ব্যবসার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা ছিল না। 
 
তাই তাঁরা অনেকটা বাধ্য হয়েই এক এক করে সকলের পাওনা পরিশোধ করে দেয় এবং একটা সময় তাঁরা বুঝতে পারে যে যারা বড় ভাই মিরাজের কাছে কোনো টাকা পেত না তাঁরাও সেসব লোকদের সাথে সাথে টাকা দাবি করছে। কিন্তু দুই ভাই এতোটাই অসহায় ছিল যে তাঁদের সেসব পাওনা পরিশোধ করা ব্যতীত আর কোনো উপায়ই ছিল না। একটা পর্যায়ে ওদের দুই ভাইকে দোকানে থাকা অবশিষ্ট স্বর্ণ অন্য দোকানীর কাছে সস্তা দামে বিক্রি করেই পাওনাদারদের টাকা দিতে হয়।
 
পাওনাদার এবং কর্মচারীগণ যখন টাকা নিয়ে চলে যায় তখন মুনিম এবং মেহেদী বড় ভাই মিরাজের দোকানখানার দিকে তাকিয়ে দেখতে পায় সেখানে কেবল দুইটি ছোট কানের দুল, একটি চেইন এবং একটি গলার হারই অবশিষ্ট রয়েছে। অতঃপর দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেয় এগুলো নিয়েই তাঁরা ফিরে যাবে কিন্তু শেষ রক্ষাটাও হলোনা বোধহয়। যখন তাঁরা দোকান ত্যাগ করে বের হতে যাবে ঠিক তখনি দোকানের মালিক তাঁদের নিকট এসে বলে,
 
-ঐ মিয়া কই যাও? তোমার ভাইয়ের কাছে আমার তিনমাসের দোকান ভাড়া বকেয়া ছিল। ঐগুলা দিয়া তবেই যাইবা।
 
মুনিম বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
-টাকাতো উল্টো আপনার কাছে পাওয়ার কথা। কারণ আমি শুনেছি ভাইয়া দোকান নেওয়ার সময় আপনাকে আট লক্ষ টাকা এ্যাডভান্স দিয়েছিল।
দোকানের মালিক এই কথা শুনে কিছুটা থতমত খেয়ে বলে,
-ধুর কি বলো! তোমার ভাই আমারে কোনো এ্যাডভান্স দেয়নাই। বিশ্বাস না করলে অন্য দোকানদারগো জিজ্ঞেস করো।
 
অতঃপর অন্যান্য দোকানদারদের মিথ্যা সাক্ষ্য প্রমাণের কারণে অনেকটা অসহায় হয়েই দুই ভাই অবশিষ্ট থাকা স্বর্ণালংকারটুকু মালিককে দিয়ে দিতে বাধ্য হলো।
.
দুইদিন অপেক্ষার পর যখন মুনিমের বড় ভাই মিরাজের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসে তখন সহসাই তাঁরা দুই ভাই বেশ অবাক হয়। কারণ পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে পাকস্থলীতে বিঁষ পাওয়া ব্যতীত শরীরের আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই এমনকি পুলিশ তাঁদেরকে জানায় আত্মহত্যার সময় মিরাজের ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকেই লক করা ছিল এবং তাঁর মৃতদেহের পাশে একটি বিঁষের বোতলও ফেলানো ছিল তাই বাইরে থেকে যে কেউ তাকে বিঁষ খাইয়ে মেরে ফেলবে সেটারও কোনো সুযোগ নেই।
 
অবশেষে তাঁরা দুই ভাই পুলিশের বক্তব্য শুনে অনেকটা নিরাশ হয়েই বড় ভাইয়ের লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।
.
মিরাজের লাশ উঠোনের কাছাকাছি নিয়ে আসতেই সুমি ও তাঁর ছেলেমেয়ে বাবার লাশ দেখে অনেকটা হুমড়ি খেয়ে পরে এবং অজস্র ধারায় কাঁদতে থাকে। তাঁদের এমন আর্তনাদ দেখে মিরার চোখেও কিছুটা জল চলে আসে। আশেপাশে থাকা প্রতিবেশীগণ এই দৃশ্য দেখে কিছুটা আফসোসের স্বরে বলতে থাকে,
-আহারে! শাশুরী মারা যাওয়ার কয়দিন পর নিজের স্বামীরেও হারাইলো। নিশ্চই এই বাড়ির উপরে শয়তানের কুনজর পরছে।
 
প্রতিবেশীদের এমন উদ্ভট কথা শুনে মিরার মনের ভয়টি তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগলো। মুহূর্তেই সে লোকালয়ের ভীড়ে কাজের মেয়ে সালমাকে খুঁজতে শুরু করলো কিন্তু উঠোনের কোথাও সে সালমাকে দেখতে না পেয়ে বেশ অবাকই হলো বটে। তবুও আপাতত মিরা সালমার ব্যপারে মাথা না ঘামিয়ে রাইসার সাথে বড় ভাবী মিরাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছে।
.
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যাকারীদের দাফন কাফন সাধারণ মৃত মানুষের মতো করা হয়না তাই মসজিদের ঈমাম সাহেবও বড় ভাই মিরাজের জানাজা পড়তে রাজি হলোনা। তবুও মুনিম এবং মেহেদি ঈমাম সাহেবকে নয়ছয় বুঝিয়ে এবং এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যাক্তির সুপারিশকে পুঁজি করে জানাজা পড়াতে অনেকটা বাধ্যই করলো ঈমাম সাহেবকে। এলাকার বেশ কিছু মানুষকে সঙ্গী করে এবং দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়েই ছোট দুই ভাই বড় ভাইয়ের লাশটা দাফন করলো বাবার কবরের পাশেই।
.
ঘরের ভিতরে কেউই এখনো পর্যন্ত পরপর দুই আপনজনকে হারানোর শোক কাঁটিয়ে উঠতে পারছে না। সুমি এবং তাঁর ছেলে মেয়ে দুটো তো কাঁদতে কাঁদতে নিজেদের চোখের অবশিষ্টাংশ জলটুকুও খুইয়ে ফেলেছে। হঠাৎই মিরা খেয়াল করে কাজের মেয়ে সালমাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সে এই ঘর ঐ ঘর খোঁজ করেও ওকে খুঁজে পেল না তাই প্রচন্ড উত্তেজনা নিয়ে মুনিমের কাছে গিয়ে বললো,
-তাড়াতাড়ি রুমে আসো তোমার সাথে কথা আছে।
স্ত্রীর এমন উৎকন্ঠা দেখে পূর্বের ন্যায় মুনিম অপেক্ষা না করে মুহূর্তেই মিরার সাথে নিজেদের রুমে প্রবেশ করলো।
 
-কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো। এমনিতেই মনটা একদম ভালো নেই।
-হুম সেটা জানি, কিন্তু সালমাকে তো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মিরার কথা শুনে মুনিম বেশ রাগান্বিত স্বরে বলে,
-এই ফালতু কথা শোনানোর জন্যই কি আমাকে রুমে ডেকে এনেছো?
-আরে এটা ফালতু না।
 
অতঃপর মিরা সেদিনের আড়াল থেকে সালমার ফোনে কারো সাথে কথা বলার সকল ঘটনা খুলে বললো। এমনকি তাবিজের বিষয়টিও আর গোপন রাখলো না। মিরার মুখে এসব কথা শুনে মুনিম বেশ উত্তেজিত কন্ঠেই বলে উঠলো,
-এসব কথা তুমি আমাকে আগে বলোনি কেন?
-বলার সুযোগটাইতো সেদিন আমাকে দিলে না। এখন এসব কথা বাদ দিয়ে সালমাকে আগে খুঁজে আনো যে ও কোথায় গেল?
 
মিরার কথা শেষ হওয়ার আগেই মুনিম ঘর থেকে বের হয়েই এদিক ওদিক সালমাকে খুঁজতে শুরু করলো কিন্তু কোথাও ওকে খুঁজে না পেয়ে ঘরের সকলকে সালমার ব্যপারে জিজ্ঞেস করলেও তাঁরা কেউই সালমার ব্যপারে তেমন আশানুরূপ বক্তব্য দিতে পারলো না। হঠাৎই রুম থেকে মিরার চিৎকারের আওয়াজ শুনে মুনিম, মেহেদি এবং রাইসা তাঁদের রুমের ভিতরে প্রবেশ করে। প্রবেশ করতেই দেখতে পায় মিরা মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে বসে বসে কান্না করছে। তাঁর এমন কান্ড দেখে মুনিম কিছুটা কাছাকাছি এসে জিজ্ঞেস করে,
-তোমার আবার কি হলো?
 
মিরা কিছু না বলে তাঁর হাতের আঙ্গুলের ইশারা দিয়ে আলমারীর দিকে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করে। সকলে আলমারীর দিকে তাকাতেই হতভম্ব হয়ে যায় কারণ আলমারীর ভিতরের তাকের পুরো অংশটাই ফাঁকা অর্থাৎ সেখানে রাখা মিরার স্বর্ণ গহনা কিংবা টাকাপয়সা কিছুই নেই। এমন দৃশ্য দেখে ছোট ভাই মেহেদি দৌড়ে নিজেদের রুমে চলে যায়। অবাক করা বিষয় হলো তাঁদের আলমারীতে থাকা টাকা পয়সা কিংবা স্বর্ণ গহনাগুলোও অবশিষ্ট নেই মানে পুরোটাই খালি।
 
বড় ভাইয়ের দাফন কার্য সেড়ে আসার পরমুহূর্তেই যে তাঁদেরকে এত বড় একটি শক খেতে হবে তা যেন কারো ভাবনাতেই ছিল না। সৃষ্টিকর্তা বিপদ দিলে সবগুলো বোধহয় একত্রেই দেয়। কারো বুঝতে একমুহূর্ত বাকি থাকেনা যে এগুলোর সবকিছুই কাজের মেয়ে সালমা চুরি করে পালিয়েছে।
.
ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশের প্রতি দুই ভাইয়ের এতোটাই অনীহা ঝেঁকে বসেছিলো যে কাজের মেয়ে ঘরথেকে সকল স্বর্ণ গহনা এবং টাকাপয়সা চুরি করার পরও তাঁরা পুলিশের ধারস্থ হয়নি।
 
এভাবেই কেঁটে যায় আরো তিনদিন...
কাজের মেয়ে সালমা টাকাপয়সা চুরি করার কারণে মুনিম এবং মেহেদি কাপড় ব্যবসার ক্ষেত্রে এক চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কারণ যেই টাকাগুলো তাঁরা জমিয়ে রেখেছিল সেগুলো দিয়েই সামনের ঈদের জন্য নতুন মাল দোকানে উঠাতে হবে। কিন্তু টাকাগুলো চুরি হওয়াতে তাঁরা একটি মালও উঠাতে পারবেনা আর তাছাড়া মহাজনরা বাকিতেও কাউকে মাল দিতে চান না। সবদিক দিয়েই দুইভাই এক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পরে যায়।
 
মুনিম এবং মেহেদি দোকান থেকে ফিরেই যখন যার যার রুমে প্রবেশ করে তখন মেহেদি তাঁর স্ত্রী রাইসাকে কোথাও দেখতে পায়না। মেহেদি অনেকটা কৌতূহল নিয়ে তাঁর বড় দুই ভাইয়ের বউ মিরা এবং সুমিকে রাইসার ব্যপারে জিজ্ঞেস করলেও তাঁরা কিছুই বলতে পারেনা। হঠাৎ রাইসার এভাবে উধাও হয়ে যাওয়াতে ঘরের সবাই বেশ চিন্তিত হয়ে পরে এমনকি ওর নাম্বারে কিংবা ওর মামার নাম্বারে কল দিলেও সকলের নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়। মেহেদি যখন রাইসাকে খোঁজার জন্য নিজের রুম থেকে শার্টটা নিতে যাবে ঠিক তখনি সে টেবিলের উপরে একটি হাতে লেখা চিঠি এবং একটি খাম দেখতে পায়। অজস্র কৌতূহল নিয়ে যখন সে চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করে তখন স্বভাবতই তাঁর হাত দুটো থরথর করে কাঁপতে থাকে, তাঁর ঐ উন্মুক্ত কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে শুরু করে এবং মুহূর্তেই তাঁর চোখদুটো রক্তিম বর্ণ ধারণ করে। কি লেখা রয়েছে এই চিঠিতে আর ঐ খামের ভিতরেই বা কি আছে? প্রশ্নগুলো থেকেই যায়...
.
(To Be Continued)
.
[আগামী পর্বেই সমাপ্তি]
 
Next Post Previous Post