সুখের জীবন : গল্প | Story: Sukher Jibon | Writer: Nayeem Nahmed

পড়েই দেখুন, নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে.....
--বাজে অশ্লীল গল্প না পড়ে ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প পড়ায় অভ্যস্ত হোন কাজে দিবে।।
একদিন মদীনার দুই ব্যক্তি একজন যুবককে টেনে-হিঁছড়ে, অর্ধপৃথিবীর শাসক খলীফা হযরত উমর (রা) এর দরবারে হাজির করল। এবং তারা বিচার দাখিল করল যে, "এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।"
.
আমিরুল মু’মিনীন খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে তার বিপক্ষে করা দাবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সেই যুবক বললেন, "তাদের দাবী সম্পুর্ণ সত্য।" এই বলে যুবকটি তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনাটি বর্ণনা করতে লাগলেন।
.
তিনি বললেন, "আমি ক্লান্ত হয়ে যাবার কারণে বিশ্রামের জন্য এক খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র পছন্দের বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। পাশেই ছিল ওদের বাবা। যে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তাদের বাবার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি, ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
 
বাদী’রা জানালেন- "আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।" হযরত উমর (রা) সব শুনে বললেন, "উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট নিলেই হতো, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।" নওজোয়ান বললো, "আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন তবে আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।"
.
খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, "তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দিতে পারি। "নওজোয়ান বললো, "এখানে আমার কেউ নেই। যে আমার জিম্মাদার হবে। এখন আমি কি করি।" যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
.
এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত এক সাহাবী যার নাম হযরত আবু যর গিফারী (রা), দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার।" সাহাবী হযরত আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একেতো অপরিচিত ব্যক্তি তার উপর হত্যার দন্ড প্রাপ্ত আসামীর জামিনদার। খলিফা বললেন, "আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।" মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।
.
দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
 
জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।
 
জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।
 
এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, "হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসতেছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও, তারপর না হয় আবু যরের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করো।" ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান। 
 
নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, "হুযুর বেয়াদবি মাফ করবেন। রাস্তায় যদি ঘোড়ার পায়ে ব্যথা না পেত,তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করি নাই। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।" 
 
আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কি হতে চলেছে। যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।
খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, "তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে।" উত্তরে সেই যুবক বলল- "আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।" 
 
এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন না চেনা সত্যেও এমন জামিনদার হলেন।" উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, "পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি।" 
 
এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, "হে খলীফা আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।"
হযরত উমর (রা) বললেন, কেন? তাদের মাঝে একজন বলে উঠলো, "কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।"
[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪]

#সুখের_জীবন

লেখাঃ Nayeem Nahmed
 

আমার স্বামী বাসায় নেই মাস তিনেক হলো!
উনি যাবার সময় আমার কাছে এসে নাকের সাথে নাক মিলিয়ে বলেছিলো, প্রতি মাসে অন্তত একটা হলেও চিঠি লেখবো। আমি তার চিঠির অপেক্ষায় রইলাম!
.
বাড়ির উঠোনের মাঝখানটায় একটা পিওন এসে দাড়ালো। হাতে চিঠির খাম!
নারুভা, পাশের ঘর থেকে দৌঁড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বল্ল, মা শোনো... বাবার চিঠি এসেছে!
আমি আঁতকে উঠলাম। চুলোয় রান্না রেখে, শাড়ীর আঁচল ঠোঁটে কামড়ে ধরে রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালাম!
-- আমার শাশুড়ী পিওনের দিকে আসতে আসতে বল্লেন, কি... আমার খোকার চিডি আইছে?
-- পিওন শুকনো হাসি দিয়ে বল্ল, জ্বি খালাম্মা।
.
-- নারুভা আমায় জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো, মা তুমি কাদছো কেন? বাবার চিঠি আসছে তুমি খুশি হওনি?
-- আমি নারুভাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বল্লাম, চোখে ধোঁয়া লেগেছে রে মা। একটু পর চোখের জ্বল এমনিতেই শুকিয়ে যাবে।
.
-- উঠোন থেকে আমার শাশুড়ী চোখ রাঙিয়ে বল্লেন, এখানে খারাইয়া কি দেহ? চুলায় কি যেন পুরার গন্ধ পাইতাছি?
-- আমি চোখে পানি নিয়েই এক ফালি হাসলাম, কতদিন পর আমার শাশুড়ী আমায় তুমি করে বল্ল! কি সুখ, কি সুখ!
.
আচ্ছা, নারুভার বাবা চিঠিতে কি লিখছে?
হয়তো এমন লিখেছে, রুপা... তুমি পেট ভরে খাও তো? রাতে তোমার ঠিকঠাক ঘুম হয়? ঘুমের মধ্যে কি আমি স্বপ্নে আসি? আলতো করে কি তোমার শাড়ীর আঁচল সরিয়ে চুল সরিয়ে দেই?
আহ্... আর ভাবতে পারছিনা। কি লজ্জা, কি লজ্জা!
-- নারুভা হঠাৎ এসে বল্ল, একি মা তোমার হাতে দেখি ফোসকা পরলো!
-- আমি, আমার মেয়েকে কিছু বলতে পারলাম না।
-- আমার শাশুড়ী পিছন থেকে এসে বল্ল, কিরে হারামজাদি পাতিলের ভাত পরছে কেমনে?
-- আমি কাপা কাপা গলায় বল্লাম, মার ফেলতে গিয়ে হাত ফসকে পরে গেছে।
-- আমার চুলের মুষ্টি ধরে শাশুড়ী বলতে লাগলো, কপাল পুড়া মাইয়া। ভাত তো ফালাইছেই আবার পাতিলটাও ভাংছে।
.
আমি চুপ চাপ দাড়িয়ে চুলের টান সহ্য করছি, এইতো আমার গালে একটা থাপ্পড় ও বসে গেলো। তারপর গরম খুন্তি চেপে ধরলো পিঠে।
.
একটা নতুন খেলা শুরু হলো!
আমার শাশুড়ী মেরে যাচ্ছে, আমি সহ্য করে যাচ্ছি। মারতে মারতে ওনি যদি ক্লান্ত হয়, এই খেলায় আমি জিতে যাবো। যদি আমি অজ্ঞান হই, আমার শাশুড়ী জিতে যাবে।
আমাদের এই খেলা প্রায়ই হয়। কখনো আমি জিতি কখনো জিতেন শাশুড়ী।
আজকে যেই জিতুক আমি খুশিই থাকবো। নারুভার বাবা আজ চিঠি পাঠিয়েছে। ওনার হাত দিয়ে লেখা চিঠিটা গভীর রাতে বুকে জড়িয়ে কাঁদবো। আমার সব "হার" চোখের জ্বলে ভাসিয়ে দিবো। আহ্... কি সুখ, কি সুখ!
সুখের এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
.
দু'ঘন্টা পর সন্ধা। সন্ধার আজানের শব্দে আমার হুস ফিরলো।
নারুভা আমার পায়ের কাছে বসে আছে। আমি নারুভাকে বুকে জড়িয়ে কপালে চুমু আঁকলাম। মেয়েটা কেদে কেমন চোখ ফুলিয়ে রাখলো।
-- নিরবতা ভেঙ্গে নারুভা বিরবির করে বল্ল, জানো মা, বাবা নাকি তোমায় চিঠি লেখেনি!
আমার বুকে ঝড় শুরু হলো। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। নির্বিকার এই আমি টা কে নিজের কাছে জীবন্ত মমীর মত মনে হচ্ছে। মনে মনে ভাবলাম, আমি দিন দিন হেরেই যাচ্ছি।
আমার মেয়ে আমায় শক্ত করে ধরে বল্ল, মা তুমি হারোনি। আমি তোমায় ভালোবাসি, মা।
.
.
৩ বছর পর,
নারুভার বাবা আজ বাড়ি আসবে, আজ থেকে আমার কোনো দুঃখ থাকবেনা। ছোট দুঃখ, বড় দুঃখ, সব দুঃখ মাটিতে পিষে ফেলবো। দুঃখ মাটিতে পিষলে মনের উর্বরতা বাড়ে, আর সুখ পিষলে মনে একটা বটবৃক্ষ তৈরি হয়, যার নাম "সুখবট"!
এই তিন বছরে নারুভার বাবা মোট ৩৭টা চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু আমার জন্য একটাও না। পুরুষ মানুষ বড় পাষাণ!
চিঠি না পাঠাক,তাতে কি? হয়তো, হাতে অনেক কাজ ছিলো।
সমস্যা নেই, আজ তিনি আসবেন। এই সুখেই আমার মনে প্রকান্ড সুখবট তৈরি হয়েছে। আমি এখন হাসবো। কিন্তু আমার চোখে জ্বল কেন!
.
বিকেলের ট্রেনে নারুভার বাবা আসবেন। নারুভার মাঝে এই নিয়ে কত্ত আনন্দ!
বাড়িতে আয়োজন শুরু হলো... শরবত বানানো হলো, উঠোনে চেয়ার দেয়া হলো, গোসলের পানি তোলা হলো, ভালো হাতপাখা রেডি করা হলো, হারিকেনে তেল ভর্তি করা হলো।
আমার ছোট্ট মেয়েটা আজ সব কাজ যেন দৌঁড়ে দৌঁড়ে করছে।
আমি সুন্দর একটা শাড়ী বের করলাম। এ-শাড়ীটাও কয়েক জায়গায় ছিড়ে গেছে। মনে মনে বল্লাম, ছিড়ে গেছে তাতে কি? ছেড়া যায়গা টুকু ভিতরে রেখে পরলেই হয়।
আমি, শাড়ী টা পড়ে নিলাম। চোখে আই ব্রু আঁকালাম। ঠোঁটে লিপস্টিক আঁকতে আঁকতে ভাবলাম, পিঠে খুন্তি দিয়ে পুড়ে যাওয়া দাগটা তার চোখে পরবে তো? যদি পরে আমি বোধহয় লজ্জায় লাল হয়ে যাবো।
.
বাহির থেকে নারুভা বলে উঠলো, মা ও মা... বাবা আসছে বাবা।
আমার বুক, ধুঁক করে উঠলো। আয়নায় তাকিয়ে লজ্জায় চোখবুঁজে ফেল্লাম। এই চোখ কিভাবে খুলবো আমার জানা নেই। চোখ মিটমিট করে ঘরের দরজা ধরে দাড়ালাম।
.
নারুভার বাবা বাড়ি আসলো, আহ্... মানুষটা কে কত ক্লান্ত দেখাচ্ছে। আমি ভালো করে চোখ খুল্লাম।
চোখ খোলে মনে হলো, আমি কেমন ঘাবড়ে গেলাম!
নারুভাকে উনি কোলে নেয়নি! এমন কি হাতটাও ধরলো না আমার মেয়ের! কিন্তু, ওনার সাথে সুন্দর মহিলা টা কে! তাও কেমন অসভ্যের মত হাত ধরে আছে!
টের পেলাম, আমার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেছে।
-- আমার শাশুড়ী এগিয়ে গিয়ে বল্ল, এটাই কি আমার লাল টুকটুকে নতুন বউ?
-- মেয়েটা, ক্লান্ত মুখে এক ফালি হেসে মাথা নিচু করলো। ইসস... কি লজ্জা, কি লজ্জা! লজ্জাতেই তো নারীর সুখ,নারীর সৌন্দর্য।
.
-- শাশুড়ী আমার দিকে কাজের মেয়ের মত তাকিয়ে বল্লেন, এই মেয়ে দরজায় খারাইয়া দেখচো কি? তাদের বাতাস করো।
আমার চোখের জ্বল শুকিয়ে গেলো। প্রকৃতির পরিবর্তনে সাগর শুকিয়ে যে মরুভূমি হয় এ আর নতুন কি?
.
-- নারুভার বাবা আমায় বল্ল, তুমি তো অনেক রোগা হয়ে গেছো। পাশের মেয়েটা মুচকি হাসলো।
-- আমি নিরব দাড়িয়ে হাতপাখা নাড়িয়েই যাচ্ছি। সাথে আমিও একটু হাসলাম। কি আজিব,এই হাসিতে আমার সুখবটের ডালপালা ভেংগে যাচ্ছে কেন? মনে মনে বল্লাম... কি সুখ, কি সুখ!
.
রাতে আমার ঘর ছেড়ে দিতে হলো। আমি এসে শাশুড়ীর ঘরের মেজেতে বিছানা পাতলাম। রাতের সাথে পাল্ল দিয়ে চোখের জোয়ার বাড়লো। জোয়ারের স্রোতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। আমি অতল ঘুমে তলিয়ে যেতে লাগলাম।
আবারো আমার গভীর স্বপ্নে টের পেলাম, নারুভার বাবা এসে শুইলো আমার পাশে! আমার পিঠ থেকে শাড়ী সরাল, ব্লাউজের দু'টো বুতাম খুলে খুন্তি দিয়ে পুড়ানো দাগে ঠোঁট ছোঁয়াল! আমি কেপে উঠলাম।
তার একটা হাত আমার পেটে ঝাপটে ধরলো! আমার চোখ দিয়ে টপটপ পানি পরছে!
আমি খুব করে চাইলাম এই স্বপ্নটা না ভাঙ্গুক!
 
----- সমাপ্তি ---------
Next Post Previous Post